বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করা হবে না

অনলাইন ডেস্কঃ
May 27, 2026 - 10:56
বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করা হবে না

ভারতে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের আর কোনো ধরনের বিশেষ আতিথেয়তা বা 'জামাই আদর' দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী[1][2]। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) নদীয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে কল্যাণীতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন[2]।

বৈঠক শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর চেকপয়েন্টে বিপুলসংখ্যক 'অবৈধ বাংলাদেশি' জড়ো হয়েছেন[2]। অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হিন্দিতে তিনি বলেন, "জলদি জলদি পালাও, অন্যথায় সরকার আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"[2]

অনুপ্রবেশকারীদের কারণে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "তাদের আটক করে কারাগারে বন্দি রেখে দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকা নষ্ট করার কোনো প্রশ্নই আসে না। তারা ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সুযোগ-সুবিধা ও সম্পদের ক্ষতি করছে[2]। অনুপ্রবেশ ঠেকানোর আইন দেশে আগে থেকেই কার্যকর ছিল, কিন্তু ভোটব্যাংকের রাজনীতির স্বার্থে পূর্ববর্তী শাসকেরা তা প্রয়োগ করেনি[2]। আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলছি—তাড়াতাড়ি চলে যান। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থানের অধিকার আমরা আর অন্য কারও সাথে ভাগ করব না।"[2]

পুলিশ প্রশাসনের প্রতি নির্দেশনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "আমরা পুলিশ বাহিনীকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি। অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। পুলিশ সরাসরি তাদের আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেবে[2]। দেশের জনগণের টাকায় তাদের থাকা-খাওয়া, ওষুধ বা পোশাকের খরচ আমরা কেন বহন করব? তারা কি আমাদের জামাই নাকি! সুতরাং, অনতিবিলম্বে সীমানা ছেড়ে চলে যান।"[2]

উল্লেখ্য, কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা’ অনুপ্রবেশকারীদের অস্থায়ীভাবে আটকে রাখার লক্ষ্যে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা ‘আটক শিবির’ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত বিজেপি সরকার[2]। ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোতে গত এক বছরে এমন বেশ কিছু হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হলেও, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম এ ধরনের কোনো কঠোর প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো[2]।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow