ভারতে ডিটেনশন সেন্টারে যাওয়ার ভয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ভিড় করছেন কথিত অভিবাসীরা

অনলাইন ডেস্কঃ
May 29, 2026 - 20:14
ভারতে ডিটেনশন সেন্টারে যাওয়ার ভয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ভিড় করছেন কথিত অভিবাসীরা

ভারতে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া নতুন অভিযানের আশঙ্কায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। আটক হয়ে ডিটেনশন সেন্টারে যাওয়ার ভয়ে শত শত মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটছেন। 

সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের শনাক্ত করে তাদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে চরম অনিশ্চয়তা। একদিকে ভারত ছাড়ার প্রশাসনিক চাপ, অন্যদিকে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ছাড়া বাংলাদেশ সরকার তাদের গ্রহণ করবে কি না—এমন দোটানায় দিশেহারা অভিবাসী পরিবারগুলো।

সীমান্তে ভিড় ও চরম আতঙ্ক
রাজ্যের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে উদ্বেগজনক চিত্র। সেখানে শিশু ও বৃদ্ধসহ শত শত মানুষ জড়ো হয়েছেন। অনেকের অভিযোগ, আইন ও মানবিকতার তোয়াক্কা না করে কেবল জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে তাদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। 

কলকাতায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করা ৪৫ বছর বয়সী হাসিনা বিবি জানান, ‘আমাদের বলা হয়েছে দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে, নয়তো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাধ্য হয়েই আমরা ফেরার পথ ধরেছি, কিন্তু জানি না সেখানে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে।’

পরিচয়ের সংকটে নতুন প্রজন্ম
এই সংকটে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন তরুণ প্রজন্ম, যারা ভারতে জন্মগ্রহণ করলেও তাদের কাছে নাগরিকত্বের বৈধ কোনো দলিল নেই। ২০ বছর বয়সী আব্দুল শেখ বলেন, ‘আমার জন্ম কলকাতায়, কিন্তু আমার কাছে কোনো ভারতীয় পরিচয়পত্র নেই। বাবা-মা মারা গেছেন। এখন আমাকে দেশ ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি জানি না বাংলাদেশে গিয়ে কীভাবে প্রমাণ করব আমি বাংলাদেশি।’

সীমান্ত পরিস্থিতি ও সরকারি উদ্যোগ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নথিপত্রহীন অভিবাসীদের জন্য আলাদা আটক কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে এমন একটি কেন্দ্র ইতোমধ্যে পুলিশি পাহারায় রয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত পারাপারের প্রবণতা বেড়েছে এবং রাতের অন্ধকারে নদীপথ দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছেন অনেকে। বিএসএফ কর্মকর্তারা বলছেন, উন্মুক্ত সীমান্তে রাতের বেলায় পাহারা দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, আইনি সুরক্ষার অভাব ও জোরপূর্বক বহিষ্কারের ভয়েই মানুষ এই চরম ঝুঁকি নিচ্ছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই অভিবাসনের এই ধারা বিদ্যমান থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার মানুষের জীবনে অস্তিত্বের সংকট দেখা দিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow