আর্থিক সংকটে ভারতে গিয়ে দলকে সমর্থন দিতে পারছেন না জিম্বাবুয়ে সমর্থকেরা

খেলা ডেস্কঃ
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:০৮ পিএম
শেয়ার করুন:
আর্থিক সংকটে ভারতে গিয়ে দলকে সমর্থন দিতে পারছেন না জিম্বাবুয়ে সমর্থকেরা

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাঠের ক্রিকেটে রীতিমতো রূপকথা লিখছে জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে সিকান্দার রাজার দল। তবে মাঠের এই অভাবনীয় সাফল্যের উল্টো পিঠে দেখা দিয়েছে এক করুণ চিত্র। চরম আর্থিক সংকটের কারণে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য সুপার এইটের ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতে থেকে প্রিয় দলকে সমর্থন দেওয়া এখন জিম্বাবুয়ের ভক্তদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে জিম্বাবুয়ের সমর্থকদের ‘ব্রাস ব্যান্ড’ ও ‘ক্যাসেল কর্নার’ ছিল গ্যালারির মূল আকর্ষণ। তাদের বাদ্যযন্ত্র আর গানে মুখরিত থাকত পুরো স্টেডিয়াম। কিন্তু দলটি যে অপরাজিত থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে উঠবে, তা হয়তো ঘোর সমর্থকেরাও কল্পনা করেননি। ফলে ভারতের মুম্বাই, চেন্নাই বা দিল্লির ভেন্যুগুলোতে যাওয়ার জন্য আগে থেকে কোনো বাজেট বা প্রস্তুতি ছিল না তাদের। হঠাৎ এই অর্জনে এখন ভারতে গিয়ে খেলা দেখার মতো আর্থিক সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন অনেক নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক।

এমন পরিস্থিতিতে জিম্বাবুয়ের স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। সমর্থকদের বিখ্যাত দল ‘ব্রাস ব্যান্ড’-এর মুখপাত্র পল মুঙ্গোফা ব্যবসায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করছি আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ফুটবলের ক্ষেত্রে আপনারা যেভাবে এগিয়ে আসেন, ক্রিকেটেও তেমনটা প্রত্যাশা করি। গ্যালারিতে আমাদের ব্রাস ব্যান্ড ও ক্যাসেল কর্নারের উপস্থিতি ক্রিকেটারদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়। আসুন, আমরা গ্যালারিতে গর্জন তুলি এবং ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরি।”

নিজেদের সীমিত সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে এত দিন দলের পাশে ছিলেন সমর্থকেরা। প্রধান সমর্থক প্রতিনিধি মালভিন কোয়ারাম্বা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা প্রতিটি ভেন্যুতে গিয়েছি, দলের জয়ে আনন্দ করেছি, আবার হারের বেদনায় তাদের সঙ্গেই কেঁদেছি। ক্রিকেটাররা এখন আমাদের পরিবারের মতো। কিন্তু এখন ভারতের পথে পা বাড়ানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।”

ভক্তদের এই ত্যাগ আর ভালোবাসার কথা ভোলেননি জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও। সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তারা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে আমাদের সমর্থন দিতে হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছেন। তাঁদের এই নিঃস্বার্থ আবেগের কাছে আমরা আজীবন ঋণী।”

এখন দেখার বিষয়, জিম্বাবুয়ের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসে কি না, যাতে করে ভারতের গ্যালারিতে আবারও বেজে ওঠে জিম্বাবুয়ের সেই চেনা ব্রাস ব্যান্ডের সুর।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।