ইসাখিলের সেঞ্চুরি ম্লান হৃদয়ের খুনে ব্যাটিংয়ে, রংপুরের বিশাল জয়
১৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন রংপুরের দুই ওপেনার। তাওহীদ হৃদয় ও ডেভিড মালান মিলে মাত্র ৪৯ বলে গড়ে তোলেন ৭৮ রানের শক্ত উদ্বোধনী জুটি। নবম ওভারে জহির খানের বলে মালান (১৫) ফিরলেও, রানের চাকা সচল রাখেন হৃদয়।
এরপর ক্রিজে আসেন রংপুরের নতুন অধিনায়ক লিটন দাস। লিটনকে সঙ্গী করে হৃদয় তার স্বভাবসুলভ বিধ্বংসী ব্যাটিং চালিয়ে যান। মাত্র ৫৭ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা। হাসান মাহমুদের বল স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে ২ রান নিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। সেঞ্চুরির পর হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে ধরে মিরপুরের বাইশ গজে সিজদা করেন হৃদয়।
ম্যাচ শেষ করে আসার সুযোগ থাকলেও ১৯তম ওভারে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে থামেন হৃদয়। তবে তার আগেই ৬৩ বলে ১৫টি চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ১০৯ রানের অনবদ্য ইনিংসটি দলের জয় নিশ্চিত করে দেয়। হৃদয় যখন ফিরছেন, রংপুরের জয় তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বাকি পথটুকু লিটন দাস (৩৯*) ও খুশদিল শাহ নিরাপদেই পাড়ি দেন। ২ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রংপুর।
এর আগে, টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। মাত্র ৩৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে রংপুরের বোলারদের ওপর তান্ডব চালান আফগান কিংবদন্তি মোহাম্মদ নবির ছেলে হাসান ইসাখিল। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৭০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর, শেষ পর্যন্ত ৭২ বলে ৪ চার ও ১১ ছক্কায় ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন। তাকে সঙ্গ দিয়ে অধিনায়ক হায়দার আলী করেন ৩২ বলে ৪২ রান। রংপুরের হয়ে আলিস আল ইসলাম ও নাহিদ রানা একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১০৯ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তাওহীদ হৃদয়। এই ইনিংসের মাধ্যমে এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি। ১০ ম্যাচে ৪২ গড় ও ১৩৯.৪৮ স্ট্রাইকরেটে তার মোট রান এখন ৩৭৮। উল্লেখ্য, হৃদয়ের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটিও এসেছিল বিপিএলেই, গত আসরে কুমিল্লার হয়ে দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে।
What's Your Reaction?
খেলা ডেস্কঃ