প্রশাসন ও শিক্ষায় বাংলা ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে এখনো ঘাটতি রয়েছে : ঢাবি উপাচার্য
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রশাসন ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপাচার্য বলেন, ‘‘বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত হলেও দেশের প্রশাসন, শিক্ষা, বিচারব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে এর ব্যবহার সর্বস্তরে নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে। বাংলা ভাষার চর্চা কেবল আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; এটি আমাদের মানসিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’’
ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগ কেবল ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় এবং সাংস্কৃতিক মর্যাদা রক্ষার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম।
এ সময় তিনি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাসহ বিশ্বের সকল মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জানান। তিনি বলেন, মাতৃভাষার সংরক্ষণ ও বিকাশে আমাদের বর্তমান উদ্যোগগুলোকে আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তবে এর পরিধি সম্প্রসারণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ঢাবি উপাচার্য জানান, জাতির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি আয়োজনের দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরের মতো এবারও পালন করেছে। এবারের কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
পরিশেষে তিনি বলেন, ‘‘ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে কেবল বিশেষ দিনে স্মরণ করলেই হবে না। বাংলা ভাষাসহ সব মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নিয়মিত চর্চা ও এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হবে ভাষাশহীদদের প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।’’
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ