সেনাবাহিনীর উদ্যােগে রুমায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

শৈহ্লাচিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
১২ জুন, ২০২৬ ১০:৪২ এএম
শেয়ার করুন:
সেনাবাহিনীর উদ্যােগে রুমায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বম সম্প্রদায়ের পুনর্বাসন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বান্দরবানে রুমায় বেথেল পাড়ায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১জুন) এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রুমা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে কেএনএ-এর অপতৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

রুমা সেনা জোন আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসি।

সভায় রুমা উপজেলার সকল পাস্টর, বম সোশ্যাল কাউন্সিল বিএসি-এর সদস্য, কারবারি, হেডম্যান ও বেথেল পাড়ার সাধারণ জনগণসহ প্রায় ১৫ জন অংশ নেন। 

আলোচনা শেষে জেল থেকে জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ভারতের মিজোরাম থেকে প্রত্যাবর্তনকারী পরিবারসহ মোট ৫৬টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।

আলোচনায় জোন কমান্ডার পাস্টরদের সঙ্গে ধর্মীয় অনুশীলন ও কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশে ধর্মীয় অনুশীলন ও উপাসনায় কোনো ধরনের বাধা বা সীমাবদ্ধতা নেই। বম সম্প্রদায়ের মধ্যে পাস্টরদের সামাজিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি কেএনএ-এর বিভিন্ন অপতৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক করেন।

কেএনএ প্রসঙ্গে ৩ দফা আহ্বান প্রসঙ্গে জোন কমান্ডার পাস্টরদের উদ্দেশে বলেন:  

১. কেএনএ-এর ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করা এবং কোনো আর্থিক সহায়তা না দেওয়া।  

২. কেএনএ সদস্যদের আত্মসমর্পণে উদ্বুদ্ধ করা এবং মিজোরামে অবস্থানরত শরণার্থীদের নিজ ঘরে ফিরে আসতে উৎসাহিত করা।  

৩. গণমাধ্যমে প্রচারিত ভুল তথ্য ও গুজবের কারণে সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করতে সচেতন ভূমিকা রাখা।

তিনি এলাকার বর্তমান স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, অতীতের অস্থিতিশীল সময়ের সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তুলনা করলেই উন্নয়ন চোখে পড়বে। স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

প্রধান অতিথি রুমা জোন কমান্ডার আরও বলেছেন

মিজোরাম ফেরত বম প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশে প্রত্যাবর্তনকারী বম ও জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনর্বাসন কর্মসূচি নেওয়া হবে। কেএনএ-এর কোনো সদস্য আত্মসমর্পণ করলে তাকে পুরস্কৃত ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে।

সভার শেষে জোন কমান্ডার বলেন, "বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ দেশের সাধারণ মানুষের সেনাবাহিনী। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী জীবন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে স্থানীয় জনগণের পাশে থাকবে।"

তিনি স্থানীয় জনগণকে কেএনএ-এর সম্ভাব্য অপচেষ্টা ও ভয়ভীতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এই সভার মধ্য দিয়ে রুমায় শান্তি, সম্প্রীতি ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।