বিজয়নগরে ৬ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রবাসীর ইন্দোনেশীয় স্ত্রী চম্পট

মোঃ শামীম মিয়া, বিজয়নগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
২৮ জুলাই, ২০২৬ ২:৫৫ পিএম
শেয়ার করুন:
বিজয়নগরে ৬ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রবাসীর ইন্দোনেশীয় স্ত্রী চম্পট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক সৌদি প্রবাসীর সাজানো সংসার মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসের কষ্টের উপার্জনে রাখা নগদ ৬ লাখ টাকা ও প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পাশের বাড়ির এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন প্রবাসীর ইন্দোনেশীয় নাগরিক স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াবাদী গ্রামে।

ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসী মো. বাবু মিয়ার অভিযোগ, গত ২৭ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে তাঁর স্ত্রী ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ইকতিয়ার পুতত্রী আওয়ালিয়া (৩৫) ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে প্রতিবেশী মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. রাকিবুল ইসলাম চৌধুরীর (২২-২৩) সঙ্গে পালিয়ে যান। এ সময় বিদেশে পুনরায় যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য ঘরে রাখা নগদ ৬ লাখ টাকা ও প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকারও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সৌদি আরবে অবস্থানকালে টিকটকের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ইকতিয়ার পুতত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় বাবু মিয়ার। সেই পরিচয় থেকে প্রেম এবং পরবর্তীতে সৌদি আরবে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তাঁদের বিয়ে হয়। পরে স্ত্রীকে বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে এনে পরিবারের সবার উপস্থিতিতে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে পুনরায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী প্রবাসী বাবু মিয়া বলেন, "বিদেশের মাটিতে দিন-রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যে টাকা জমিয়েছিলাম, তা দিয়ে একটি সুখী সংসার গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ সেই মানুষটিই আমাকে নিঃস্ব করে চলে গেল।"

তিনি আরও জানান, কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারেন পার্শ্ববর্তী দুলাল মিয়ার ছেলে রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার রাতে স্ত্রী নিখোঁজ হলে তিনি রাকিবুলের বাড়িতে খোঁজ নিতে যান। সেখানে তাঁকে না পেয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে রাকিবুল স্পষ্ট জানান, তিনি বাবু মিয়ার স্ত্রীকে নিয়ে গেছেন এবং তাঁকে আর ফেরত দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আর কোনো খোঁজখবর বা বাড়াবাড়ি করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে। 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মামুন চৌধুরী বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও আমাদের সামাজিক পরিবেশের জন্য আশঙ্কাজনক। এলাকার সামাজিক মর্যাদা ও শান্তি বজায় রাখতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।"

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী বাবু মিয়া বিচার ও মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বিজয়নগর উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

বি.দ্র.: অভিযুক্ত পক্ষ এবং স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।