এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
প্রত্যাবর্তনকৃত বম পরিবারদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বান্দরবান রিজিয়ন এর নির্দেশনায় ১৬ ইস্ট বেংগল এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কেওক্রাডং-সুংসুং পর্যটন পুনরায় খুলে দেয়া হয় এবং সেনাবাহিনীর অর্থায়নে সুংসুংপাড়ায় একটি ইকো রিসোর্ট নিমার্ণ শেষে পাড়াবাসীদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায়, বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সদর দপ্তর বান্দরবান রিজিয়নের পৃষ্টপোষকতায় ১৬ ইস্ট বেংগল-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন পাড়াবাসীদের নিকট ০২টি 'চাঁদের গাড়ি' হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ বাকলাইপাড়া সাব-জোনের আওতাধীন কংলাই-কাইথন স্কুলের মাঠে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, রিজিয়ন কমান্ডার, বান্দরবান রিজিয়ন স্থানীয় পাড়াবাসীর প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়ি দুটির চাবি হস্তান্তর করেন এবং আয়োজিত প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষি, জুমচাষ, ফল উৎপাদন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে পরিবহন সংকট এবং বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ব্যাহত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ২৪ পদাতিক ডিভিশন এবং ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড তথা বান্দরবান রিজিয়ন এর সরাসরি তৎপরতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আস্থা, সম্প্রীতি ও টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সাল হতে অদ্যাবধি বাস্তুচ্যুত বম জনগোষ্ঠীর ২১১ পরিবারের সর্বমোট ৫৩১ জন সদস্য পাড়ায় প্রত্যাবর্তন করেছে।০
এ সময় ১৬ ইস্ট বেংগল এর অধিনায়ক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানচি উপজেলা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি, বম সোশ্যাল কাউন্সিলের মুখপাত্র, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন পাড়ার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, পার্বত্য এলাকার বাস্তবতায় যানবাহন কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচলের মাধ্যম নয়; এটি দুর্গমতাকে জয় করে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে গতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। এই গাড়ি দুটির সঙ্গে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো, একজন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াত, একজন কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছে দেওয়া এবং একটি পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।
হস্তান্তরকৃত চাঁদের গাড়ি দুটি বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বাকলাইপাড়া, প্রাতা পাড়া, থান্দুইপাড়া, সিমব্ল্যাংপি পাড়া, বাশিরাম পাড়া, কংলাই-কাইথন পাড়া, দুলাচরণ পাড়া, বল্লম পাড়াবাসীদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। গাড়ি দুটি জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের যাতায়াত, কৃষিপণ্য ও মৌসুমি ফলমূল বাজারজাতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে।
গাড়িটি পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় যুবসমাজের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি গাড়ি থেকে অর্জিত আয় পাড়াবাসীর সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সেই সমন্বিত লক্ষ্য সামনে রেখে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
চাঁদের গাড়ি গ্রহণকালে স্থানীয় পাড়াবাসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি গাড়ির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং জরুরি যাতায়াতে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ তাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি সঞ্চার করবে।
স্থানীয় জনগণ আরও আশা প্রকাশ করেন যে, চাঁদের গাড়িটি তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও ফলমূল দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে সহায়তা করবে, পরিবহন ব্যয় কমাবে এবং পাড়ার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর ফলে স্থানীয় পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২৮ জুলাই, ২০২৬
ক্যাম্পাস | ২৮ জুলাই, ২০২৬
নওগাঁ | ২৮ জুলাই, ২০২৬
মাদারীপুর | ২৮ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।