এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালনের পর গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর সরে দাঁড়ানোর পর দেশের নতুন বঙ্গভবনের অভিভাবক কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর গুঞ্জন।
সংবিধানের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, আগামী ২৪ অক্টোবরের (৯০ দিন) মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এই পদে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম উচ্চারিত হলেও রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম।
কেন আলোচনায় ড. ইউনূস?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদে ড. ইউনূসের নাম উঠে আসার পেছনে মূল কারণ তাঁর অলংকারহীন রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় গ্রহণযোগ্যতা।
২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এই বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত সফলতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত অলংকারিক হলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি জোরদার করা এবং বহির্বিশ্বে একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর মতো ব্যক্তিত্ব বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
বিএনপির সামনে ‘কৌশলগত সমীকরণ’
ড. ইউনূসের নাম রাষ্ট্রপতির আলোচনায় আসায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সামনে তৈরি হয়েছে এক নতুন সমীকরণ—‘দলীয় আনুগত্য নাকি বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা’।
যদি ড. ইউনূসকে এই পদে মনোনীত করা হয়, তবে তা বিশ্বদরবারে বর্তমান সরকারের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে। অন্যদিকে, দলটির একটি বড় অংশ মনে করে—রাজপথের কঠিন সংকটকালে যেসব নেতা বিশ্বস্ত থেকেছেন এবং দলীয় আদর্শের প্রতি শতভাগ অনুগত, তাঁদের মধ্য থেকেই কাউকে দেশের সর্বোচ্চ অলংকারে ভূষিত করা উচিত।
লড়াইয়ে আছেন আরও যেসব জ্যেষ্ঠ নেতা
রাষ্ট্রপতি পদে ড. ইউনূসের পাশাপাশি বিএনপির ভেতর থেকেও একঝাঁক অভিজ্ঞ নেতার নাম জোর আলোচনায় রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (দলের মহাসচিব ও মন্ত্রী)
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (প্রবীণ রাজনীতিবীদ)
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
ড. আবদুল মঈন খান
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম (স্পিকার ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি)
অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা)
এছাড়া, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে স্থায়ীভাবে বঙ্গভবনে রেখে দেওয়ার একটি গুঞ্জনও বাতাসে ভাসছে। তবে ২০০৭ সালের ১/১১-এর সময়কার কিছু ঘটনার কারণে তাঁর বিষয়ে দলের ভেতরে কিছুটা মৃদু বিতর্ক রয়ে গেছে।
দলীয় নীতিনির্ধারকদের অবস্থান
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, রাষ্ট্রপতি কে হবেন সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
আবার বিএনপি প্রধানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনে করেন, রাজপথে পরীক্ষিত এবং দলের আদর্শে শতভাগ অনুগত কাউকেই রাষ্ট্রপতির আসনে বসানো যুক্তিসংগত।
তবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আশ্বস্ত করেছেন, সংবিধান, প্রচলিত নিয়ম ও দলীয় গঠনতন্ত্র মেনেই যথাসময়ে মনোনীত প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হবে।
শেষ কথা:
এখন দেখার বিষয়, রাষ্ট্রপতির শূন্য আসন পূরণে শাসকদল কি রাজপথের অনুগত নেতাদের ওপর আস্থা রাখবে, নাকি বৈশ্বিক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে নোবেলজয়ী নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব ড. ইউনূসের দিকেই ঝুঁকবে।
এপ্রিল ১৪, ২০২৬
জানু ১২, ২০২৬
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২৮ জুলাই, ২০২৬
ক্যাম্পাস | ২৮ জুলাই, ২০২৬
নওগাঁ | ২৮ জুলাই, ২০২৬
মাদারীপুর | ২৮ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।