গোয়ালঘর ছেড়ে নতুন ঠিকানায় ফিরছে সোহেলের পরিবার, পাশে সালথার ইউএনও দবির উদ্দিন

মোঃ শাহ্ জালাল, স্টাফ রিপোর্টার:
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৫ পিএম
শেয়ার করুন:
গোয়ালঘর ছেড়ে নতুন ঠিকানায় ফিরছে সোহেলের পরিবার, পাশে সালথার ইউএনও দবির উদ্দিন

যে ঘরে গবাদিপশু থাকার কথা, সেখানেই স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর দিন কাটছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর গ্রামের সোহেলের। নিজের বলতে নেই এক চিলতে জমিও; অন্যের গোয়ালঘরেই কোনোমতে আশ্রয় মিলেছে চার সদস্যের এই পরিবারের। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সোহেল ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর দুটি কিডনিই বিকল হয়ে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। এমন চরম বাস্তবতায় এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

অভাবের তীব্র কষাঘাতে ১৩ বছর বয়সী বড় ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ও সংসারের মুখে খাবার তুলে দিতে বয়সের আগেই সে স্থানীয় একটি দোকানে শ্রমিকের কাজ বেছে নিয়েছে। আর সাত বছর বয়সী ছোট ছেলেটি প্রথম শ্রেণিতে পড়লেও পরিবারের এই টানাপোড়েনে তার ভবিষ্যৎও এখন ঘোর অনিশ্চয়তায়। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট ও স্যাঁতসেঁতে গোয়ালঘরটির এক পাশে রাখা সোহেলের সংসারের ভাঙাচোরা কিছু জিনিসপত্র, আর অন্য পাশেই চারজন গাদাগাদি করে রাত কাটান। একসময় সোহেলের স্ত্রী মানুষের কাছে চেয়েচিন্তে বা ভিক্ষা করে কিছু খাবার জোগাড় করতেন। কিন্তু কিডনি জটিলতায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়ার পর এখন তাঁদের দুবেলা আহার আর ওষুধের খরচ চালানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রাজিয়া বেগম ও বাসিন্দা রবিউল মাতুব্বর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে। শুধু ঘর নয়, সোহেল ও তাঁর স্ত্রীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে পরিবারটি পুরোপুরি পথে বসে যাবে।’

সরেজমিনে ইউএনও, আশ্রয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের উদ্যোগ**  
পরিবারটির এই করুণ পরিণতির খবর জানতে পেরে গত শুক্রবার বিকেলে আটঘর গ্রামে সোহেলদের সেই জীর্ণ গোয়ালঘরে ছুটে যান সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন। তিনি সোহেল ও তাঁর অসুস্থ স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের মানবেতর জীবনযাপন নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেন।

এ সময় ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, ‘পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই তো নেই-ই, জীবিকা নির্বাহের মতো আয়ের কোনো পথও নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেলের পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী ঘর নির্মাণের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিবারটি যেন স্বাবলম্বী হয়ে নিয়মিত আয়ের সুযোগ পায়, সেজন্য তাঁকে একটি ছোট দোকান করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

প্রশাসনের এমন মানবিক হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের ঘোর অমানিশা কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন সোহেল। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসনের এই প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে পরিবারটি গোয়ালঘরের বন্দিদশা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাবে এবং বড় ছেলেটিরও আবারও স্কুলে ফেরার পথ সুগম হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।