কাগজে-কলমে ৭৪ শিশুকে ‘জন্ম দিলেন’, আবার ‘মৃত্যুও দেখালেন’ ইউপি সচিব

অনলাইন ডেস্কঃ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৫৩ পিএম
শেয়ার করুন:
কাগজে-কলমে ৭৪ শিশুকে ‘জন্ম দিলেন’, আবার ‘মৃত্যুও দেখালেন’ ইউপি সচিব

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে অস্তিত্বহীন ৭৪ শিশুর ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু দেখিয়েছেন এক ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তা। শুধু কাগজে-কলমেই তাদের জন্ম দেখানো হয়নি, জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে আবার মৃত্যু দেখিয়ে নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন এই জালিয়াতি করেছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নিবন্ধন সহকারী) আবুল বাছের।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। অভিযুক্ত আবুল বাছের নিজেও লিখিতভাবে এই জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বর্তমানে একই উপজেলার টুমচর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত আছেন।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ ‘বিডিআরআইএস’ (BDRIS) সিস্টেমে চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৭৪টি অস্তিত্বহীন শিশুর জন্ম দেখানো হয় এবং পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে তাদের মৃত্যু দেখিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়। ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে এসব ভুয়া নিবন্ধন করা হয়েছিল।

গত ২৭ আগস্ট রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন আবুল বাছের। সেখানে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অতিরিক্ত চাপের কারণে তিনি এই অনিয়ম করেছেন। তবে তথ্যগুলো সঠিক নয় স্বীকার করে ভুয়া নিবন্ধনগুলো বাতিলের অনুরোধ জানান তিনি।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল (যুগ্ম সচিব) মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আবুল বাছেরের নিবন্ধন সহকারীর ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে স্বীকৃত ‘বিডিআরআইএস’ সিস্টেমের তথ্যের শুদ্ধতা নষ্ট করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ এবং দায়িত্ব অবহেলার দায়ে ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১’ অনুযায়ী আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

চিঠিটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শুভ্রজিত রায় জানান, অভিযুক্ত বাছের আগে এই ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে টুমচর ইউনিয়নে কর্মরত আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, “অভিযুক্তের লিখিত জবাব দেওয়ার কথা ছিল। তবে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে কোনো চিঠি এখনো আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। চিঠি পাওয়া মাত্রই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।