শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের সমন্বয়ে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এটা অন্যদের জন্যও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত,, স্থাপন করবে।
বান্দরবানের সদর উপজেলা চিম্বুক রোডে ম্রোলং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুন ভবন উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৩০০ নং আসনে বান্দরবান সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী এমপি এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাচিংপ্রু জেরী এমপি নবনির্মিত বিদ্যালয় ভবনের ভূয়সী প্রশংসা করে একটি ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণাদায়ক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে অতিথি বলেছেন, এটি শুধু একটি আধুনিক ও বহুমুখী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকারী ভবন নয়; বরং এর নকশা ও স্থাপত্যে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রথাগত স্থাপত্যশৈলীর অনন্য প্রতিফলন ঘটেছে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মেনু ম্রো'র সভাপতিত্বে এতে বিশ্বাস অতিথি ও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন
হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মংমংসিং, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর সহযোগী অধ্যাপক মি. আহমাদ আল-মুহাইমিন (শুভ), বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য খামলাই ম্রো, হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (HF) প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিদ্যা পূর্ণ চাকমা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন বিদ্যালয়ের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং উন্নত শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে, পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো শিক্ষাগত সাফল্য অর্জনে উৎসাহিত করবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আরও বলেন এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যাদের দূরদর্শিতা, আন্তরিকতা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং উদার সহযোগিতা রয়েছে, তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা নতুন স্কুল ভবনটিকে শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং সমগ্র এলাকার টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করেন।
এদিকে স্থানীয়রা বলেছেন নবনির্মিত ম্রোলং পাড়া স্কুল ভবনের উদ্বোধন এলাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উদ্যোগ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ করেন।