বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের নতুন ভিসা নীতি আটকে দিলেন মার্কিন আদালত

অনলাইন ডেস্কঃ
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১০ পিএম
শেয়ার করুন:
বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের নতুন ভিসা নীতি আটকে দিলেন মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি সাংবাদিকদের অবস্থানের মেয়াদে কড়াকড়ি আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নতুন ভিসা নীতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত এই বিতর্কিত নিয়মটি কার্যকর হওয়ার আগমুহূর্তে ফেডারেল জেলা বিচারক ডেনিস সেলর এ সংক্রান্ত প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

প্রস্তাবিত নতুন নীতিতে কী ছিল?
প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের অবস্থানে বড় ধরনের বিধিনিষেধ আনা হয়েছিল:
শিক্ষার্থীদের জন্য: শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বিদেশিদের জন্য অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ চার বছর নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর সেখানে থাকতে হলে নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতো। অথচ বর্তমান নিয়মে কোনো শিক্ষার্থী তাঁর শিক্ষাক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই অবস্থানের সুযোগ পান।
সাংবাদিকদের জন্য: বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন (প্রায় আট মাস) করার প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা পুনরায় সমপরিমাণ সময়ের জন্য নবায়নের সুযোগ রাখা হয়। অথচ বিদ্যমান নিয়মে একজন বিদেশি সাংবাদিক সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থানের অনুমতি পান।
চীনা সাংবাদিকদের জন্য: চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে নিয়মটি ছিল আরও কঠোর। তাদের ভিসার মেয়াদ মাত্র ৯০ দিন এবং পরবর্তীতে সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল।

মামলা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
নতুন এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি সংগঠনের জোট আদালতের দ্বারস্থ হয়। রিটের শুনানি শেষে বিচারক ডেনিস সেলর নীতিটির বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত করেন এবং আগামী ২ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

আদেশের সঙ্গে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে বিচারক সেলর নীতিটির কার্যকারিতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে বলেন:
"বর্তমান ব্যবস্থার সুবাদে কোটি কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। এর ফলে বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিদ্যা ও প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী গবেষণার পাশাপাশি মার্কিন অর্থনীতিতে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি এসেছে। এই ব্যবস্থাকে উন্নত করার পরিবর্তে এমন একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, যা বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দেবে।"*

ক্ষমতার অপব্যবহার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় আঘাতের শঙ্কা
বিচারক সেলর বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, নতুন নিয়মে কোনো বিদেশি নাগরিকের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—তা পুরোপুরি ডিএইচএস কর্মকর্তাদের একক বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো আবেদন বাতিল করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার বা আপিল করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, এর ফলে ক্ষমতার অপব্যবহারের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে যেসকল বিদেশি সাংবাদিক মার্কিন সরকার বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করবেন, প্রতিহিংসাবশত তাদের ভিসা নবায়ন না করার বড় ধরনের আশঙ্কা থেকে যায়। বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে কর্তৃপক্ষের দেখানো ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ যুক্তিকে আদালত ‘অযৌক্তিকতার পর্যায়ভুক্ত’ এবং কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে মন্তব্য করেন।

প্রেক্ষাপট
বিদেশি শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের এই উদ্যোগটি মূলত তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের সামগ্রিক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতির একটি অংশ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ১১ লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন—যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত স্বস্তিতে থাকছেন দেশটিতে অবস্থানরত লাখ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।