যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
Mar 25, 2026 - 12:03
যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের বিপরীতে ৫টি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই বহুমুখী সংঘাতের ইতি টানতে সম্প্রতি পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ওই প্রস্তাব পাঠায় ওয়াশিংটন। তবে চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরান যেসব পাল্টা শর্ত দিয়েছে, তা পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে ইরান কঠোর কিছু আনুষ্ঠানিক দাবি তুলে ধরেছে। ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ এই আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—যুদ্ধ যে ভবিষ্যতে আর শুরু হবে না, তার দৃঢ় ও বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির জন্য এমন একটি নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে, যা কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে তুলে দেবে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধে তাদের যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণও চাওয়া হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এবার তারা সত্যিই আন্তরিক। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী। তবে শেষ পর্যন্ত যা-ই ঘটুক না কেন, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। আমেরিকা ও মিত্রদের প্রতি হুমকি বন্ধ করার জন্য ইরানের সামনে এখন আরেকটি সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, তেহরান এই সুযোগটি গ্রহণ করবে, যা পুরো বিশ্বকে আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল করবে।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা চার সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধের বিশাল অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার ওই পরিকল্পনায় মূলত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথের নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। কারণ, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিমা জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি কার্যত অনিরাপদ ও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। পারস্য উপসাগরের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথটি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো এই প্রস্তাব ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বা তারা এটিকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মেনে নেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরায়েলও ইরানের ওপর ক্রমাগত বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির এই মার্কিন প্রস্তাবে তেল আবিবের সম্মতি রয়েছে কি না, সেটিও এখনো অজানা। সব মিলিয়ে সংঘাত থামাতে ওয়াশিংটনের জোর কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও, বহুমুখী এই যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি এখনো বেশ অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow