আগৈলঝাড়ায় উপজেলা জামে মসজিদের মাইকের তার ছেঁড়ার ঘটনায় দুই কর্মচারীকে শোকজ

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
১২ জুন, ২০২৬ ১০:৫৪ এএম
শেয়ার করুন:
আগৈলঝাড়ায় উপজেলা জামে মসজিদের মাইকের তার ছেঁড়ার ঘটনায় দুই কর্মচারীকে শোকজ

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত উপজেলা জামে মসজিদের মাইকের বিদ্যুৎ সংযোগের তার ছেঁড়ার অভিযোগে দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িচালক মোঃ কামাল হোসেন

এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গাড়িচালক মোঃ মেহেদী হাসান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ আহমেদ তাদের বিরুদ্ধে এ শোকজ নোটিশ জারি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের জামে মসজিদে নিয়মিত নামাজ ও আজানের জন্য ব্যবহৃত ৪টি মাইকের মধ্যে ১টি মাইকের বিদ্যুৎ সংযোগের তার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত দুই কর্মচারী তাদের নিজ উদ্যোগে মসজিদের মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন, যার ফলে মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিষয়টি জানা মাত্রই উপজেলা প্রশাসন রাতেই বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনরায় সংযুক্ত করে।

আজ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, ইমাম, মুয়াজ্জিন, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে, ওলামায়ে কেরাম মুসল্লিদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ দাখিল করা হলে তিনি ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং উক্ত আলেম ও উপস্থিত জনগণের সামনে অভিযুক্তদের ডেকে আনা হয়। তখন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গাড়িচালক মেহেদী হাসান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িচালক কামাল হোসেন উক্ত ঘটনার দায় স্বীকার করেন। তারা স্পষ্টভাবে জানান যে, মসজিদের মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কোনো নির্দেশনা, সম্পৃক্ততা কিংবা ভূমিকা ছিল না। বিষয়টি তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংঘটিত হয়েছে বলে তারা সকলের সামনে স্বীকার করেন।

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে। পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার কারণে তাদের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তারা জনসম্মুখে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতকরনের জন্য উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে যেন এরূপ কার্যক্রম না ঘটে তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “মসজিদের মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন জানান, মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে আজান ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে মসজিদের কয়েকজন মুসল্লি বলেন, উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থিত একটি মসজিদের সঙ্গে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মচারীকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি বর্তমানে উপজেলা জুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।