আগৈলঝাড়ায় ভুয়া বোন সাজিয়ে জমি বিক্রি, বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
৩০ জুলাই, ২০২৬ ৬:৪৮ পিএম
শেয়ার করুন:
আগৈলঝাড়ায় ভুয়া বোন সাজিয়ে জমি বিক্রি, বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রবাসে থাকা আপন বোনকে গোপন রেখে অন্য এক নারীকে ‘বোন’ সাজিয়ে পৈতৃক জমি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ভাইয়ের বিরুদ্ধে। জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পাদিত দলিল বাতিল ও প্রতারকদের বিচারের দাবিতে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ফাতেমা তুন আঁখি। 

লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা তুন আঁখি জানান, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বেলুহার গ্রামের নানা বাড়ির সূত্র ধরে বেলুহার মৌজার ১৬৪ ও ২৬৫ নম্বর খতিয়ানের ১২টি দাগের ২২ শতাংশ জমির ওয়ারিশ সূত্রে তিনি ও তার আপন বড় ভাই মো. মোস্তাফিজুর রহমান যুবরাজ মালিক হন। ফাতেমা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে গত ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বড় ভাই মোস্তাফিজুর রহমান যুবরাজ প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি অন্য এক নারীকে বোন হিসেবে দাঁড় করিয়ে জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দলিল লেখক মো. শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেলুহার গ্রামের রোজিনা বেগম নামের এক নারীর কাছে ওই ২২ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত ওই দলিলে দলিল লেখক শহিদুল ইসলাম নিজেই ভুয়া বোনের পরিচয়দানকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন এবং সাব-রেজিস্ট্রার জহিরুল ইসলাম দলিলটি রেজিস্ট্রি করে দেন। 

পরবর্তীতে জালিয়াতির খবর পেয়ে ভুক্তভোগী ফাতেমা তুন আঁখি পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে ছুটে আসেন। প্রতারণামূলক এই দলিল বাতিলের জন্য আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলনের পথ বেছে নেন তিনি।

ভুক্তভোগী নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার ভাই, দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রার যোগসাজশ করে ভুয়া নারী সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেছেন এবং আমাকে প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন। আমি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চক্রের কঠোর বিচারের দাবি জানাচ্ছি।" এ ঘটনায় আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

জমি ক্রয়ের বিষয়ে ক্রেতা রোজিনা বেগম বলেন, "কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই জমি কিনেছিলাম। তবে পরে জানতে পারি বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান প্রতারণা করে অন্য নারীকে বোন সাজিয়ে জমিটি বিক্রি করেছেন। এ জালিয়াতির ঘটনা জানার পর আমি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।"

জালিয়াতিতে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে দলিল লেখক শহিদুল ইসলাম বলেন, "মোস্তাফিজুর রহমান পূর্বপরিচিত হওয়ায় তার দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র দেখে দলিল সম্পাদন করেছি। সে অন্য কাউকে বোন সাজিয়ে নিয়ে এসেছে কি না, তা আমার জানা ছিল না।"

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রার জহিরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ফাতেমা তুন আঁখির মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর দলিল লেখক শহিদুলের দলিল লেখার কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে প্রতিকারের জন্য আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এনআইডি ছাড়া নিবন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিক্রেতা তার বোন প্রবাসে থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র নেই বলে জানালে আইন অনুযায়ী জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।