বান্দরবানের থানচিতে ‘পার্টনার’ ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত: তামাক চাষ ছেড়ে আধুনিক কৃষির আহ্বান

অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
৮ জুন, ২০২৬ ৬:১৭ পিএম
শেয়ার করুন:
বান্দরবানের থানচিতে ‘পার্টনার’ ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত: তামাক চাষ ছেড়ে আধুনিক কৃষির আহ্বান

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টি উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়ালিদ হোসেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নঈম মো. সাইফুদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য খামলাই ম্রো, পার্টনার প্রকল্পের রাঙামাটি অঞ্চলের মনিটরিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) সুমন কুমার বসাক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ, থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার এবং থানচি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও সংস্থা কারিতাসের পিএইচপি-৩ প্রকল্পের প্রতিনিধি, কৃষক-কৃষাণী ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু নঈম মো. সাইফুদ্দিন বলেন, “কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হলে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। পার্টনার প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” 

তিনি কৃষকদের তামাক চাষ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তামাক চাষ মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জমির উর্বরতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তামাকের বদলে খাদ্যশস্য, ফলমূল ও পুষ্টিকর ফসল চাষে এগিয়ে আসতে হবে। তামাককে ‘না’ বলে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষির দিকে অগ্রসর হলে কৃষকের আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, “সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল কাজে লাগিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিকে উদ্যোক্তাভিত্তিক ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করা সম্ভব। পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষকদের আরও বেশি সচেতন ও আগ্রহী হতে হবে।”

আলোচনা সভায় বক্তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, নারীর অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত শতাধিক কৃষক-কৃষাণী অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কংগ্রেসে অংশ নেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।