ছাগল কেনার কথা বলে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে বেঁধে নির্যাতন, সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

শফিকুল ইসলাম জনি, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
১২ জুন, ২০২৬ ২:২৫ পিএম
শেয়ার করুন:
ছাগল কেনার কথা বলে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে বেঁধে নির্যাতন, সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ছাগল কেনার কথা বলে ডেকে নিয়ে আল আমিন (২৪) নামে এক ছাগল ব্যবসায়ীকে চেয়ারে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ব্যবসার সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। 

গত ৯ জুন সকালে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে গত ১০ জুন নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর পিতা সোবহান মোল্লা। 

আহত আল আমিন উপজেলার ধুতরাহাটি গ্রামের সোবহান মোল্লার ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্র জানায়, গত ৯ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাকপালদিয়া গ্রামের একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে আল আমিনকে দুটি ছাগল কেনার জন্য ডাকা হয়। সেই সূত্র ধরে আল আমিন ছাগল কিনতে অভিযুক্তদের বাড়িতে যান। সেখানে পৌঁছামাত্রই তাঁকে একটি চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন শুরু করা হয়। একপর্যায়ে গামছা দিয়ে তাঁর গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টাও চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আহত আল আমিন জানান, মারধরের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যবসার নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। নির্যাতনের সময় তাঁকে বলা হয়, তাঁদের এক আত্মীয়ের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শাকপালদিয়া গ্রামের মজিদ ফকির, তাঁর নাতি সেনা সদস্য মুকুল এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ভুক্তভোগীর পিতা সোবহান মোল্লা দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে মারধর ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে আল আমিনকে বাড়িতে ডেকে এনে বেঁধে রাখা এবং মারধর করার বিষয়টি তাঁরা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, কয়েক দিন আগে সালথা সদর বাজারে তাঁদের এক আত্মীয়কে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে আল আমিন জড়িত—এমন সন্দেহের ভিত্তিতেই তাঁকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগটি তাঁরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগীর মা লিমা নাজনিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে এবং তাঁর সাথে থাকা ব্যবসার সব টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।"

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ এ বিষয়ে বলেন, "ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।