‘আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে’

অনলাইন ডেস্কঃ
১২ জুন, ২০২৬ ১২:৫৬ পিএম
শেয়ার করুন:
‘আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে’

ঢাকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনিরের দাবি, সরকার মূলত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, বরং তাদের প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্সটি বাতিল করেছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, আদেশে হাসপাতালের লাইসেন্সই বাতিল করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে নথিপত্রে সংশোধন আনা হবে। 

আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে লাইসেন্স বাতিলের আদেশের কপি সংযুক্ত করে এই দাবি উত্থাপন করেন আইনজীবী শিশির মনির।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৪ জুন ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ অনুযায়ী আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশে লাইসেন্স নম্বর ‘HSM 4310059’ উল্লেখ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

আইনজীবী শিশির মনিরের দাবি, উক্ত লাইসেন্স নম্বরটি হাসপাতালের নয়, বরং সেটি প্যাথলজি সেন্টারের। হাসপাতালের মূল লাইসেন্স নম্বরটি হলো ‘HSM 4310058’। হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য সরকার দুটি আলাদা লাইসেন্স ইস্যু করেছিল—যার একটি হাসপাতালের এবং অন্যটি প্যাথলজি ল্যাবরেটরির জন্য। 

ফেসবুক পোস্টে হাসপাতাল ও প্যাথলজি বিভাগের দুটি লাইসেন্সের কপিই সংযুক্ত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কর্তৃপক্ষ (সরকার) কোনটির লাইসেন্স বাতিল করল, তা তারাই ভালো বলতে পারবে। এটি কি তাদের অবহেলা নাকি ইচ্ছাকৃত? অবহেলা হলে তা কেমন ধরনের অবহেলা? বিচারের ভার আপনাদের ওপর রইল।"

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান সংবাদমাধ্যমকে জানান, "আমরা আদেশে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করে দিয়েছি যে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এগুলো (আইনি ফাঁকফোকর খোঁজা) করে কোনো লাভ হবে না। আমরা সরেজমিনে বিষয়টি খতিয়ে দেখব। আদেশে যদি কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তবে তাও পরে করা হবে।"

এর আগে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, হাসপাতালটিকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে হাসপাতালটি লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে রোগীদের চিকিৎসা নেওয়া অনুচিত।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাই নবজাতকদের মৃত্যুর মূল কারণ। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রথমে ৭২ ঘণ্টার সময় দেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়। গত ৯ জুন আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ নোটিশের লিখিত জবাব দিলেও তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। ফলে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের এই আদেশের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।