অনুষ্ঠানে বক্তব্যের আগে চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৫৩ পিএম
শেয়ার করুন:
অনুষ্ঠানে বক্তব্যের আগে চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

হবিগঞ্জে জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর ওপর হামলায় চোখ হারানোর প্রতিবাদে এক অভিনব ও প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্যের আগে নিজের চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে—জনতার ১ দফা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভা পরিচালনাকারী বক্তব্যের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণার পরপরই তিনি মঞ্চের পর্দার আড়ালে চলে যান। প্রায় এক মিনিট পর তিনি যখন সবার সামনে ফিরে আসেন, তখন তার চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল। এই ব্যান্ডেজ পরা অবস্থাতেই তিনি পুরো বক্তব্য প্রদান করেন।

সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির ছাত্রসংগঠন 'জাতীয় ছাত্রশক্তি'র কর্মসূচি চলাকালে হামলার শিকার হন সংগঠনটির স্থানীয় সংগঠক ও এইচএসসি শিক্ষার্থী আলিফ চৌধুরী। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করেছে এনসিপি। ওই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই ব্যতিক্রমী উপায় বেছে নেন।

বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “এখানে ব্যানারে লেখা আছে—‘আলিফের চোখ ফিরিয়ে দিন’। কিন্তু কে এই চোখ ফিরিয়ে দিতে পারবে? কোথা থেকে দেবে? তাদের তো নিজেদেরই চোখ নেই! যদি চোখ থাকত, তবে কি তারা আলিফের সেই কান্না দেখত না? আলিফের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করত না?”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘাত ও আন্দোলনে অন্তত অর্ধসহস্রাধিক মানুষ চোখ হারিয়েছেন। হবিগঞ্জের ঘটনায় গুরুতর আহত আলিফ চৌধুরীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানান এনসিপির নেতৃবৃন্দ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।