এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
বাসগুলো তখনো সারি সারি দাঁড়িয়ে গ্যারেজে। উদ্দেশ্য-নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু তার আগের মুহূর্তগুলো? সেখানে যেন কোনো গন্তব্য নেই। আছে শুধু গল্প, হাসিঠাট্টা, আড্ডা আর বন্ধুত্বের অবিচ্ছেদ্য মায়া।
অপরাহ্ন পেরোতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজ যেন ভিন্ন রূপে জেগে ওঠে। সারাদিনের ক্লাস, পরীক্ষা আর ক্লান্তি পেরিয়ে ধীরে ধীরে জড়ো হতে থাকে পরিচিত মুখগুলো। এ যেন এক অনানুষ্ঠানিক মিলনমেলা। কারও বাসের সিট ধরার তাগাদা, কারও হাতে ব্যাগ, কেউ আবার চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে। এর মধ্যে কেউ এসেছে নিজের পছন্দের সিটটি আগে থেকেই দখল করে রাখতে, আবার কেউ এসেছে শুধুই বন্ধুত্বের টানে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটাতে।
বাস তখনো নীরব দাঁড়িয়ে, কিন্তু চারপাশের জীবন কোলাহলে পরিপূর্ণ। কেউ কাঙ্ক্ষিত সিটে ব্যাগ রেখে সন্তুষ্ট, আবার কেউ বলে ওঠে-‘এই সিট আমার, আমি আগে আসছি।’ কেউ আবার পাশের সিটটিও আগেই দখল করে রেখেছে প্রিয় বন্ধুটিকে বসাবে বলে। এ যেন বন্ধুত্বের এক অঘোষিত সংরক্ষণ।
কিন্তু বাস ছাড়তে তো এখনো অনেকটা সময় বাকি। তাহলে কী করবে এই সময়টুকু?
ঠিক পরক্ষণেই জমে ওঠে মজার আড্ডা। পাশের ছোট্ট দোকান থেকে ভেসে আসে চায়ের কাপের টুংটাং শব্দ। চায়ের ধোঁয়া আর কথার উষ্ণতায় জমে ওঠে প্রাণবন্ত আড্ডা। কী থাকে না সেই আড্ডায়! ‘তোর পরীক্ষা কেমন হলো?’, ‘চল না কোথাও ঘুরে আসি’, ‘চল, আজ রেস্টুরেন্টে খেতে যাব’, ক্লাসের গল্প, ক্যাম্পাস নিয়ে আলোচনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ভালোবাসার গল্প-সবই ফুটে ওঠে সেই আড্ডায়।
গল্প করতে করতে চা শেষ হয়ে যায়, কিন্তু গল্প শেষ হয় না। চায়ের দোকানটি যেন হাজারো গল্পের নীরব সাক্ষী। কত আনন্দঘন মুহূর্ত, অভিমান, কথার ফুলঝুরি, হাসির ফোয়ারা-বন্ধুত্বের কত সূচনা যে এখান থেকেই!
তার একটু সামনে ফুচকাওয়ালা মামা। তাঁর সামনে দাঁড়ালেই অপেক্ষার সময়টুকু যেন আরও ক্ষীণ হয়ে আসে। কারও ফুচকায় ঝাল বেশি, কারওটায় আবার টক বেশি। কেউ বলে ওঠে-‘মামা, আরেকটা দেন তো।’ ছোট্ট এই আবদারেই জমে ওঠে মজার খুনসুটি।
কিছু দূরে আরেক মামা বসে আছেন হরেক রকমের আচার নিয়ে। সেখানে ছোট্ট জটলায় কয়েকজন মিলে ভাগাভাগি করে আচার খাওয়ার অনুভূতিটা যেন জীবনের অনেক সুন্দর মুহূর্তকেও হার মানায়।
পড়ন্ত বিকেলে গোধূলির সন্ধিক্ষণে এই মুহূর্তগুলো যেন নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। জীবনের এই মুহূর্তগুলোর মূল্য এখন হয়তো আমাদের কাছে নগণ্য। মনে হয়, আরও কিছুক্ষণ বসি, আরেক কাপ চা খাই, আরও কিছুক্ষণ গল্পের আসর জমাই। বাস তো নির্দিষ্ট সময়েই ছাড়বে। কিন্তু কে জানত, এই ‘আরেকটু সময়’ একদিন জীবনে এত মূল্যবান হয়ে উঠবে!
একদিন হয়তো গ্যারেজে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিমাখা চত্বরগুলো পেছনে পড়ে থাকবে। চায়ের আড্ডা, ফুচকার টক-ঝাল, বেশি করে মরিচ দেওয়া ঝালমুড়ি-সবই হয়ে যাবে স্মৃতির উপকরণ। জীবন ছুটতে থাকবে নতুন গন্তব্যের পেছনে।
হয়তো কোনো এক ব্যস্ত বিকেলে, শহরের অচেনা কোনো এক মোড়ে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে পড়ে যাবে সেই দিনগুলোর কথা। মনের অজান্তেই হারিয়ে যাব সেই চিরচেনা ক্যাম্পাসে। মনে পড়ে যাবে ক্যাম্পাসজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশগুলো-হারিয়ে যাওয়া দিন, ফেলে আসা বিকেল, পুরোনো দিনের গন্ধ। সবই স্মৃতির পাতায় একেকটি অধ্যায় হয়ে থাকবে।
সেই ক্যাম্পাসে সুখী হওয়ার জন্য বড় কিছু অর্জনের প্রয়োজন ছিল না। কয়েকজন বন্ধু, এক কাপ চা, বেহিসাবি হাসি আর নির্মল আনন্দেই কেটে যেত পুরোটা সময়।
আজ যে গ্যারেজকে আমরা নিত্যদিনের দৃশ্যপট ভেবে পাশ কাটিয়ে যাই, একদিন হয়তো সেটিই হয়ে উঠবে আমাদের স্মৃতির এক উজ্জ্বল ঠিকানা।
কিছু জায়গা শুধু জায়গা নয়; একসময় সেগুলো হয়ে ওঠে ভাবনার এক অফুরন্ত ঠিকানা। কিছু আড্ডা নিছক আড্ডা নয়; হয়ে ওঠে একেকটি স্মৃতি। বাস ছেড়ে যায়, সবাই হয়তো নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যায়। কিন্তু গ্যারেজে কাটানো সেই মুহূর্তগুলো কখনো হারায় না। তারা থেকে যায় এক কাপ চায়ে, এক প্লেট ফুচকায়, বন্ধুদের জন্য অপেক্ষায়।
কারণ আমাদের গন্তব্য হয়তো ছিল বাস, কিন্তু ঠিকানা ছিল আড্ডা।
এপ্রিল ২১, ২০২৪
জুন ১৭, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
বান্দরবান | ২৮ জুন, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
বরিশাল | ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলাদেশ | ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।