প্রথমবারের মতো সমুদ্রে উদ্ধার অভিযানে নামল মার্কিন ‘সি ড্রোন’

অনলাইন ডেস্কঃ
১০ জুন, ২০২৬ ২:৩২ পিএম
শেয়ার করুন:
প্রথমবারের মতো সমুদ্রে উদ্ধার অভিযানে নামল মার্কিন ‘সি ড্রোন’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করতে প্রথমবারের মতো চালকবিহীন নৌযান বা ‘সি ড্রোন’ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। 

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সমুদ্র থেকে মানুষ উদ্ধারের অভিযানে কোনো চালকবিহীন সামরিক নৌযান সরাসরি ব্যবহৃত হওয়ার ঘটনা সম্ভবত এটিই প্রথম। 

মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, এই উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত ড্রোনটির নাম ‘সারোনিক কর্সেয়ার’ (Saronic Corsair)। প্রায় ২৪ ফুট (৭.৩ মিটার) দীর্ঘ এই স্বয়ংক্রিয় নৌযানটি কোনো মানুষের সরাসরি সাহায্য ছাড়াই পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকা দুই সেনা সদস্যকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে তাদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মূল ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পেন্টাগন দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত সামরিক সম্পদের পাশাপাশি কম খরচে দ্রুত সাড়াদানের উদ্দেশ্যে ড্রোন ও চালকবিহীন যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে আসছিল।

এর আগে, ২০২১ সালে বাহরাইনে চালকবিহীন সামুদ্রিক প্রযুক্তি পরিচালনার লক্ষ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রথম বিশেষ ইউনিট হিসেবে ‘টাস্ক ফোর্স ৫৯’ গঠন করা হয়। এই ইউনিটের উদ্যোগেই ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে ‘কর্সেয়ার’ সিরিজের চালকবিহীন ড্রোন মোতায়েন শুরু হয়েছিল।

মার্কিন নৌবাহিনী ইঙ্গিত দিয়েছে যে, শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠেই নয়, পানির নিচেও কাজ করতে সক্ষম এমন আরও কিছু উন্নত মানের চালকবিহীন প্রযুক্তি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার অনেকগুলোই এখনো কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ থাকলেও, ভবিষ্যতে সমুদ্রে শত শত বা হাজার হাজার চালকবিহীন নৌযান মোতায়েনের বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে পেন্টাগনের।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।