কৃষক ন্যায্যমূল্য পায় না, বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় লাভ যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে: শহিদুল ইসলাম বাবুল

অনলাইন ডেস্কঃ
২৬ জুলাই, ২০২৬ ৫:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন:
কৃষক ন্যায্যমূল্য পায় না, বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় লাভ যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে: শহিদুল ইসলাম বাবুল

শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখলেও সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত দেশের কৃষকসমাজ। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে কৃষকরা তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ন্যায্য সুফল পাচ্ছেন না।**

সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের নিয়মিত সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘আলাপন’-এ অংশ নিয়ে তিনি কৃষি খাতের বর্তমান চিত্র ও কৃষকদের নানা সংকট তুলে ধরেন। 

একটি বৃহৎ কৃষক পরিবারে বড় হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বাবুল বলেন, “দেশের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তারা দিনরাত পরিশ্রম করে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পান না। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনার অভাব, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং ঋণের বোঝার কারণে কৃষকরা ক্রমেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”

পেঁয়াজ ও পাট খাতের দুরবস্থা
কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ার উদাহরণ দিতে গিয়ে বাবুল ফরিদপুর ও রাজবাড়ী অঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি জানান, ওই অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়, যা জাতীয় চাহিদার এক বড় অংশ মেটায়। কিন্তু সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর প্রচুর পেঁয়াজ নষ্ট হয়। আর মৌসুমে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লাভের বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

একইভাবে সোনালি আঁশ পাটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের পাটকলগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ায় দেশি পাট বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই পাট দিয়েই তৈরি কার্পেটসহ অন্যান্য বহুমুখী পণ্য চড়া দামে বাংলাদেশে আমদানি করা হচ্ছে।

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও নীতিগত সংস্কারের দাবি
শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “বর্তমানে সার, বীজ, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি এবং শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের দাম বাড়েনি।” কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রপাতির ওপর থেকে ভ্যাট ও কর কমানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’
অতীতে বিএনপি সরকারের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসননামলে কৃষিঋণ মওকুফ এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফের মতো ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। 

আগামী দিনে কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো, উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। শহিদুল ইসলাম বাবুল জোর দিয়ে বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই মূলনীতিকে সামনে রেখেই আগামী দিনে বিএনপি কাজ করে যাবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।