কুষ্টিয়া সীমান্তে পদ্মার চরে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর গোলাগুলি, নিহত ১

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ হারুন অর রশীদ
১১ জুন, ২০২৬ ১০:৩০ এএম
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়া সীমান্তে পদ্মার চরে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর গোলাগুলি, নিহত ১

কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর সীমান্তবর্তী পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার ও বালুমহাল দখলকে কেন্দ্র করে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের গুলিতে 'কাঁকন বাহিনী'র সদস্য ও কথিত ম্যানেজার আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নিহত হয়েছেন। 

গত মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হবির চর থেকে শুরু করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর চর পর্যন্ত দীর্ঘ সীমানা জুড়ে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত আজিজুল হক ঝড়ু নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার আব্দুল শেখের ছেলে। তিনি পাবনার ঈশ্বরদীর ‘কাঁকন বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য ও চরাঞ্চলের বালুমহালের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর বাঘা এলাকার বিল্লাল ও মুনতাজ মণ্ডলের নেতৃত্বাধীন ‘মণ্ডল বাহিনী’, পাবনার ঈশ্বরদীর ‘কাঁকন বাহিনী’ এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ‘নাহারুল বাহিনী’ সক্রিয় রয়েছে। বালুঘাট দখল, চরের ফসলি জমি নিয়ন্ত্রণ ও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এসব বাহিনী প্রায়ই প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বাঘার মণ্ডল বাহিনী এবং ঈশ্বরদীর কাঁকন বাহিনীর সদস্যরা মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। উভয় পক্ষের মধ্যে অন্তত শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আজিজুল হক ঝড়ু। পরে নাটোরের লালপুর উপজেলার চরজাজিরা মৌজা সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে একটি স্পিডবোটে থাকা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ। উদ্ধারকালে নিহতের মাথায় গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দুর্গম চরাঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেখানে স্থায়ী কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা বা নিয়মিত কার্যকর অভিযান না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ অক্টোবরও চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে এই দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে মণ্ডল বাহিনীর দুজন এবং কাঁকন বাহিনীর একজনসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, নাটোরের লালপুর থানা এলাকার পদ্মা নদী থেকে স্পিডবোটে থাকা এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, মরিচা ইউনিয়নের হবির চর থেকে শুরু করে বাঘার আলাইপুর চর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলে। ঠিক কত রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাতের সময় সন্ত্রাসীরা একে-৪৭-এর মতো আধুনিক ও ভারী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।