রুমায় কালবৈশাখী ঝড়: অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন বৃদ্ধ কারবারী জিংআলহ্ বম

শৈহ্লাচিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
৩১ মে, ২০২৬ ৬:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন:
রুমায় কালবৈশাখী ঝড়: অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন বৃদ্ধ কারবারী জিংআলহ্ বম

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে ঘরের ছাদ বিধ্বস্ত হলেও অলৌকিকভাবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ৮১ বছর বয়সী বৃদ্ধ জিংআলহ্ বম। তিনি রুমা সদর ইউনিয়নের এডেন রোড পাড়ার প্রধান (কারবারী)। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরের দিকে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড়ের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

শনিবার (৩০ মে) সকালে রুমা উপজেলা সদরের এডেন রোডে নিজের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে সেই রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা জানান জিংআলহ্ বম। 

তিনি বলেন, "ঝড়ের আগের দিন পাশের বাড়ির এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মারা যান। প্রতিবেশী হিসেবে আমি তাঁর লাশের পাশে বসে ছিলাম। দুপুরের দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও প্রবল বাতাস শুরু হলে লাশের ঘরে থাকা মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সে সময় জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও রুমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জুয়েল বমসহ অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঝড় শুরু হলে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এদিক-সেদিক ছুটতে থাকেন, অনেকে আমার ঘরের দিকেও আসেন।"

জিংআলহ্ বম আরও বলেন, "আমি লাঠিতে ভর দিয়ে নিজের ঘরের দিকে রওনা হই। শারীরিক দুর্বলতার কারণে আমার পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়। আমি যখন বারান্দায় পা দিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকতে যাব, ঠিক তখনই একটি বিকট শব্দে বড় একটি আম গাছের ডাল ভেঙে ঘরের ছাদে পড়ে। ডালটি আমার বাম কানের খুব কাছ দিয়ে সজোরে নিচে পড়ে এবং পুরো ঘরটি ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে। ভেতরে থাকা সবাই চিৎকার করে আমার খোঁজ নিতে থাকে। কিন্তু ঈশ্বরের কৃপায় আমি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যাই। আমাকে অক্ষত দেখে উপস্থিত সবাই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।"

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জিংআলহ্ বমের ঘরের বাম পাশের কোণায় গাছের বড় ডালটি ভেঙে পড়ে ছাদটি দেবে গেছে। স্থানীয় প্রতিবেশীদের সহায়তায় ডালটি সরিয়ে নেওয়া হলেও দেবে যাওয়া ছাদটি এখনো সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। 

৮১ বছর বয়সী জিংআলহ্ বম ও তাঁর ৭৫ বছর বয়সী স্ত্রী এখন চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের সন্তানরা বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। শেষ বয়সে এসে এই দম্পতি নিজেদের বাগানের ফলমূল ও ফসলাদি বিক্রি করে কোনোমতে জীবন ধারণ করেন। কিন্তু এবারের কালবৈশাখী ঝড়ে বাগানের আমসহ অধিকাংশ ফসল ঝরে গিয়ে তাঁরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তার ওপর ঘরটি ভেঙে যাওয়ায় মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

জিংআলহ্ বম আক্ষেপ করে বলেন, "সংসার চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন প্রয়োজন, কিন্তু তা কেনার টাকা কোথায় পাব? বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে হেঁটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করার মতো অবস্থাও আমার নেই। কেউ যদি আমাদের এই অসহায় অবস্থায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, তবে ঘরটি মেরামত করে নিতে পারতাম।"

এদিকে স্থানীয় চাষিরা জানান, গত বৃহস্পতিবারের কালবৈশাখী ঝড়ে রুমার বিভিন্ন পাড়ায় মৌসুমী ফল, বিশেষ করে আম বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বাতাসে বিপুল পরিমাণ আম ঝরে পড়ায় চাষিরা অবর্ণনীয় লোকসানের মুখে পড়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।