ফরিদপুরের নগরকান্দায় আড়াই লাখ টাকার অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
১৫ জুলাই, ২০২৬ ৯:৫০ পিএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের নগরকান্দায় আড়াই লাখ টাকার অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

"দেশীয় মাছ রক্ষা করি, টেকসই মৎস্য সম্পদ গড়ে তুলি"— এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফরিদপুরের নগরকান্দায় দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার বিভিন্ন খাল-নালা ও বিলে দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল জব্দ করে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

"মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ বাস্তবায়নে" নগরকান্দা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আবরারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, "দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষার্থে আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। মঙ্গলবার কাইচাইল বিলে এবং বুধবার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী বিলে আমরা অভিযান চালিয়েছি। আমাদের এই অঞ্চলে কেবল চায়না দুয়ারি জালই নয়, উন্মুক্ত জলাশয়ে বাঁশ দিয়ে তৈরি করা প্রচুর অবৈধ 'ভেসাল' বা ঘের রয়েছে, যা মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।"

তিনি আরও বলেন, "প্রাকৃতিক ও উন্মুক্ত জলাশয়ে কেউ এভাবে ব্যক্তিগতভাবে বাঁধ বা ঘের দিতে পারে না। অনেকেই গ্রামে গ্রামে আপস-মীমাংসা করে এসব অবৈধ কাজ করছেন বলে মনে করছেন, কিন্তু উন্মুক্ত জলাশয়ে এমনটা করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। তাই চায়না দুয়ারি জালের পাশাপাশি আমরা এসব অবৈধ বাঁশের ঘেরের বিরুদ্ধেও শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করব।"

দেশীয় মাছ রক্ষার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এলাকার সাধারণ জনগণকে স্বপ্রণোদিত হয়ে সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।