ছেলের নতুন অট্টালিকায় ঠাঁই হলো না ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের

অনলাইন ডেস্কঃ
১০ জুন, ২০২৬ ৪:৪১ পিএম
শেয়ার করুন:
ছেলের নতুন অট্টালিকায় ঠাঁই হলো না ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। একমাত্র ছেলের তৈরি করা নতুন আলিশান দালান ঘরে ঠাঁই হয়নি ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা ছামেনা খাতুনের। উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

পারিবারিক পটভূমি ও অবহেলার শুরু
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছামেনা খাতুনের জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ নভেম্বর। ২০০৮ সালে তাঁর স্বামী আবদুল হক মারা যান। তাঁদের সংসারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, ২০১১ সালে ফয়েজ আহমেদ মায়ের ভরণপোষণ না দিয়ে তাঁকে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে থাকা বোন রোকেয়া বেগমের ঘরে পাঠিয়ে দেন। রোকেয়া বেগম নিজেও একজন স্বামীহারা নারী। দুই দিনমজুর ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে চলা সংসারে তিনিই বিগত ১৫ বছর ধরে বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনা করে আসছিলেন। 

নতুন বাড়ি এবং পুনরায় বিতাড়ন
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফয়েজ আহমেদ সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। সে সময় গ্রামের মাতব্বর ও সর্দারদের অনুরোধে তিনি মা ছামেনা খাতুনকে নিজের ঘরে ফিরিয়ে নেন এবং বাড়িতে একটি নতুন পাকা ভবন (বিল্ডিং) তৈরি করেন। 

কিন্তু গত ৪ মে ফয়েজ আহমেদ পুনরায় সৌদি আরবে চলে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ উঠেছে, ফয়েজ চলে যাওয়ার পরপরই তাঁর স্ত্রী রুমা বেগম বৃদ্ধা শাশুড়িকে নতুন বাড়ি থেকে বের করে দেন। এমনকি গভীর রাতে শাশুড়িকে তাঁর মেয়ে রোকেয়া বেগমের ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

কান্নাভেজা কণ্ঠে মা ও মেয়ের আকুতি
অসহায় মেয়ে রোকেয়া বেগম ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই ভাই ফয়েজ ও ভাবি রুমা মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। ২০১১ সালে তারা মাকে জোরপূর্বক আমার ভাঙা ঘরে পাঠিয়ে দেয়। সম্প্রতি সমাজের লোকজনের চাপে ভাই মাকে নিজের ঘরে নিলেও সে প্রবাসে ফিরতেই ভাবি গভীর রাতে মাকে বিল্ডিং থেকে বের করে দেয়। বয়সের ভারে মা এখন নানা জটিল রোগে আক্রান্ত।"

নিঃসঙ্গ ও অসুস্থ বৃদ্ধা ছামেনা খাতুন অত্যন্ত ভারী কণ্ঠে বলেন, "ছেলের নতুন ঘর থেকে আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তারা এখন আর আমার কোনো খোঁজখবর নেয় না।"

প্রশাসনের আশ্বাস
এ বিষয়ে আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। খুব দ্রুত স্থানীয় গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা করে ছামেনা খাতুনের সমস্যার একটি স্থায়ী ও সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করব।"

ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, "স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনের সার্বিক ভরণপোষণ ও আইনি নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।