প্রত্যাশা-প্রাপ্তি ও কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বে ১১ দলীয় জোটে অসন্তোষ

অনলাইন ডেস্কঃ
৮ জুন, ২০২৬ ২:৪১ পিএম
শেয়ার করুন:
প্রত্যাশা-প্রাপ্তি ও কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বে ১১ দলীয় জোটে অসন্তোষ

গঠনের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় সংকটের মুখে পড়েছে ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব না মেলা, অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব এবং জোটের ভেতরে একক কর্তৃত্বের অভিযোগ নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।

অসন্তোষের মূল কারণ
জোটের শরিক দলগুলোর অভিযোগ, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জোটের মধ্যে কার্যকর কোনো আলোচনা বা সমন্বয় নেই। বিশেষ করে, এনসিপিতে অন্য দলের সাবেক নেতা-কর্মীদের যোগদান এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য জোটের ঐক্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

শরিকদের অবস্থান
জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা জোটের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না। ১০ জুন অনুষ্ঠিতব্য মজলিসে আমেলার সভায় জোট ছাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের অনেক প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বিশেষ করে সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে জামায়াতের অবস্থানে আমরা হতাশ।’ আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণে জামায়াত প্রার্থী ছাড় না দিলে এনসিপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জুর মতে, এই জোটটি মূলত একটি নির্বাচনী ঐক্য ছিল। কোনো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্যের ভিত্তিতে এটি গঠিত না হওয়ায় বর্তমানে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে জোটটি কোনোমতে টিকে আছে।

জামায়াতের বক্তব্য
জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জোটের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘জোটের শরিকদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। জোটে একক কর্তৃত্বের অভিযোগ সত্য নয়। আমরা সবাইকে সমান গুরুত্ব ও মর্যাদা দিয়ে থাকি।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং কার্যকর সমন্বয় না থাকলে এই জোটে ভাঙন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনগুলোতে জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সংকট উত্তরণে কী পদক্ষেপ নেয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।