এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
প্রবাসীর কষ্টার্জিত অর্থে নির্মিত স্বপ্নের ঘরটিই আজ তার স্ত্রীর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের নোয়াবাদী গ্রামের মীর বাড়ি এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও পারিবারিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় ঘর থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনাও ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী মোসা. সীমা আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামী মো. শরীফ উদ্দিন প্রবাসে থাকার সুযোগে তার ভাসুর (স্বামীর বড় ভাই), জা (ভাবি), শাশুড়ি ও ননদেরা তাকে নিয়মিত মানসিক নির্যাতন, হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। নির্যাতন সহ্য করে তিনি দীর্ঘদিন সংসার করলেও সম্প্রতি তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে সামাজিকভাবে প্রবাসী মো. শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে সীমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের শুরুতে দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক ছিল। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে শরীফ উদ্দিন প্রথমে দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সহযোগিতায় তিনি বিদেশে পাড়ি জমান এবং বর্তমানে দুবাইয়ে কর্মরত রয়েছেন।
বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে শরীফ উদ্দিন নিজের জমিতে একটি পাকা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ইতোমধ্যে ওই ভবন নির্মাণে ১৫ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে, যার সম্পূর্ণ অংশই তিনি প্রবাস থেকে পাঠিয়েছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ভবন নির্মাণ ও পারিবারিক প্রয়োজনে শরীফ উদ্দিন প্রায় ১২ লাখ টাকার বেশি দেশে পাঠিয়েছিলেন, যার সঠিক কোনো হিসাব পাননি তার স্ত্রী।
নির্যাতনের শিকার সীমা আক্তার বলেন, “স্বামী বিদেশে থাকার কারণে আমি অসহায় অবস্থায় দীর্ঘদিন তাদের সব অত্যাচার সহ্য করেছি। আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারা প্রতিনিয়ত চাপ দিত। অবশেষে তারা আমাকে জোর করে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ভবন নির্মাণের কাজের জন্য ঘরে রাখা নগদ প্রায় ৫ লাখ টাকা এবং আমার গলায় থাকা প্রায় ৬ আনা ওজনের সোনার চেইন তারা ছিনিয়ে নিয়েছে। এছাড়া ঘরের অনেক মূল্যবান জিনিসপত্রও তারা নিয়ে গেছে। যে বাড়িটি আমার স্বামীর রক্ত ও ঘাম ঝরানো উপার্জনে তৈরি করা হয়েছে, আজ সেই বাড়িতেই আমার কোনো ঠাঁই নেই। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সালিশ-বৈঠক করলেও কোনো সমাধান মেলেনি।
স্থানীয় সমাজসেবক ও সালিশকারক মো. শাহ আলম মীর এ বিষয়ে বলেন, “আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে কয়েকবার বসেছি। প্রবাসী শরীফ উদ্দিনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে—এ বিষয়টি আমরা সবাই জানি। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তাই নিরুপায় হয়ে আমরা ভুক্তভোগী নারীকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”
পরবর্তীতে নিজের ও স্বামীর নিরাপত্তা চেয়ে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিজয়নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সীমা আক্তার। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে বিষয়টি প্রশাসনের তদন্তাধীন রয়েছে।
মার্চ ১৫, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাদারীপুর | ১০ জুন, ২০২৬
ক্রিকেট | ১০ জুন, ২০২৬
ফুটবল | ১০ জুন, ২০২৬
বিনোদন | ১০ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।