বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, আলোচনায় যারা

অনলাইন ডেস্কঃ
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩২ পিএম
শেয়ার করুন:
বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, আলোচনায় যারা

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রেক্ষাপটে দেশের পরবর্তী (২৩তম) রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন ও হিসাব-নিকাশ।

রাজনীতিকদের অগ্রাধিকারের কারণ
অতীতে দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগের ফলে একাধিকবার রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবার কোনো অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককেই দেশের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে বসাতে চায়। 

দলের নীতিনির্ধারকদের পর্যবেক্ষণ—সংকটময় মুহূর্তে রাজনৈতিক চাপ দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারবেন, এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তাই কোনো প্রাক্তন আমলা বা শিক্ষাবিদের বদলে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’র সদস্যদের মধ্য থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। 

আলোচনার শীর্ষে যাঁরা
সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। 
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ নেতা শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম গত দুই দিনে নতুন করে বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। দলের একটি সক্রিয় অংশ তাঁকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায়। এ ছাড়া নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকেই তাঁকে এই পদের জন্য যোগ্য বলে মনে করছেন।
অন্যান্য সম্ভাব্য নাম: স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও চর্চায় রয়েছে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী সংসদের এক অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন ডাকতে হয়। সে হিসাবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নতুন অধিবেশন বসবে এবং সেই অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নির্ভর করছে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

২৩তম রাষ্ট্রপতি পদের আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই আলোচনা রাজনৈতিক ময়দানে কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।