ভাণ্ডারিয়ায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে সোয়া ৩ লাখ টাকা লুট: যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

মোঃ নাজমুল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৯ এএম
শেয়ার করুন:
ভাণ্ডারিয়ায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে সোয়া ৩ লাখ টাকা লুট: যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ভাঙ্গারি মালামাল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে জিম্মি ও মারধর করে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দায়ের করা মামলায় অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়ন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. সোহাগ মৃধা ও তার সহযোগী মো. সোহাগ হাওলাদার। 

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম (৩৫) বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার শিরোখালী গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর বিবরণ অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর সকালে ভাঙ্গারি মালামাল কেনার উদ্দেশ্যে ‘সুমন’ নামের এক ব্যক্তির আমন্ত্রণে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওভারব্রিজ এলাকায় যান আসাদুল। সেখানে পৌঁছালে সুমন ব্যস্ততা দেখিয়ে ‘সাগর’ নামের এক সহযোগীকে পাঠান। সাগর মালামালের গোডাউনে নেওয়ার কথা বলে তাকে কৌশলে ধাওয়া এলাকার ‘গোড়াখাল’ নামক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।

সেখানে পরিবেশ সন্দেহজনক মনে হলে আসাদুল বিপদের আশঙ্কা করে মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা চক্রের সদস্যরা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। আসাদুল স্থানীয়দের কাছে সাহায্য চাইতে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করে মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়া হয় এবং সাবেক বিএনপি নেতা মশিউর রহমান টিটু হাওলাদারের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

অভিযোগে আসাদুল জানান, সেখানে তাকে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনে কিছু অবৈধ পণ্যের ছবি পাঠিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া ও সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানো হয়। প্রাণভয়ে তিনি এটিএম কার্ডের পিনসহ সবকিছু তাদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন। 

চক্রটি তার কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার টাকা, বিকাশ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা নেয়। পরবর্তীতে জোরপূর্বক সিটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয় এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাবে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা স্থানান্তর করে নেয়। এছাড়া তার মানিব্যাগ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাঁচটি ব্যাংক চেক ও দুটি এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে সর্বমোট ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

মুক্ত হয়ে ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পরবর্তীতে ভাণ্ডারিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে ধাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ কাজী, সাবেক উপজেলা বিএনপি সদস্য মশিউর রহমান টিটু হাওলাদার, ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. রুবেল হাওলাদারসহ স্থানীয় অরুণ বৈরাগী, সুকান্ত, সুমন ও সঞ্জয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা গা-ঢাকা দেওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভাণ্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে অর্থ লুটের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি—মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।