মার্কিন হামলায় ইরানি জাহাজ ডুবিতে চরম চাপে ভারতের ‘ভারসাম্যের কূটনীতি’

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 5, 2026 - 11:25
মার্কিন হামলায় ইরানি জাহাজ ডুবিতে চরম চাপে ভারতের ‘ভারসাম্যের কূটনীতি’

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে এত দিন বেশ মেপে মেপেই পা ফেলছিল ভারত। কিন্তু শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার নজিরবিহীন ঘটনা নয়াদিল্লির সেই ‘হিসাব-নিকাশ করা’ বা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ মনে করছে, ভূরাজনৈতিক এই আকস্মিক ঘটনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে নতুন করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপে ফেলতে পারে।

শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার তাদের উপকূলের কাছে ইরানের ফ্রিগেট 'আইআরআইএস দেনা' ডুবে যায়। এই ঘটনায় অন্তত ১০০ নাবিক নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন, তবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ৩২ জনকে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে হামলা চালিয়ে জাহাজটিকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন ভূপৃষ্ঠের কোনো যুদ্ধজাহাজে সরাসরি হামলা চালাল।

এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের ভূরাজনৈতিক অর্থনীতি বিশ্লেষক চেতনা কুমার ও অ্যাডাম ফারার বৃহস্পতিবার এক নিবন্ধে লিখেছেন, "এই ঘটনা ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েনের ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি মোদি সরকারের জন্য এটি ঘরোয়া অস্বস্তিরও একটি বড় কারণ।"

যদিও বিশ্লেষকেরা এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় বৃহত্তর সংঘাত বিস্তারের সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন না, তবে তাঁরা মনে করেন, এই হামলা ভারত ও শ্রীলঙ্কা—উভয় সরকারের ওপরই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তেহরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার স্পষ্ট নিন্দা না করায় দেশের ভেতরে সমালোচনার মুখে রয়েছে মোদি সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, নিজ নাগরিকদের সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগ স্বার্থ রক্ষার মতো জটিল বিষয়গুলোতে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখেই এগোতে চাইছে দিল্লি।

বাণিজ্য চুক্তি এবং শুল্ক নীতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের আলোচনা এমনিতেই কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন সাবমেরিনের এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীলঙ্কার ‘একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে’ (EEZ)। যেহেতু ঘটনাটি সরাসরি ভারতের জলসীমায় ঘটেনি, তাই নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে। তবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা নিয়মিত ওই এলাকায় যৌথ নৌ-টহল পরিচালনা করে। ফলে নিজেদের দোরগোড়ায় একটি মার্কিন সাবমেরিনের এমন আক্রমণাত্মক উপস্থিতি দিল্লির কৌশলগত ও নিরাপত্তা মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানি যুদ্ধজাহাজ 'আইআরআইএস দেনা'-এর সঙ্গে ভারতের পূর্ব-পরিচয় রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউতে অংশ নিতে জাহাজটি ভারতে এসেছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ ৪০টি দেশের নৌযান উপস্থিত ছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow