সড়ক দুর্ঘটনায় সব হারিয়ে নিঃস্ব সিয়াম, পাশে দাঁড়ালেন মাসুদ সাঈদী এমপি

মোঃ নাজমুল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
৩১ মে, ২০২৬ ৮:১৩ পিএম
শেয়ার করুন:
সড়ক দুর্ঘটনায় সব হারিয়ে নিঃস্ব সিয়াম, পাশে দাঁড়ালেন মাসুদ সাঈদী এমপি

গোপালগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা, বাবা ও ভাইকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া ১১ বছরের শিশু সিয়ামের পাশে দাঁড়িয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী।

রোববার (৩১ মে) বিকেলে নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের মুনিরাবাদ গ্রামে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন তিনি। এ সময় সিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং নিহত তিনজনের পরিবারকে নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি এক মাসের খাদ্যসামগ্রীও তুলে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন সোহাগ (৩৭), তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩৪) ও তাদের ছেলে আরমান (৮)। গত ২৮ মে দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় দোলা পরিবহনের একটি বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের এই তিন সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হন।

এই দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় সোহাগের বড় ছেলে সিয়াম। মাত্র ১১ বছর বয়সেই সে হারিয়েছে তার মা, বাবা ও ভাইকে। বর্তমানে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।

নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মাসুদ সাঈদী বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। এত অল্প বয়সে সিয়াম তার পুরো পরিবার হারিয়েছে। তার পাশে সমাজের সবাইকে দাঁড়াতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার দেখভালের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১১ বছরের শিশু সন্তান সিয়ামের পড়ালেখা, ভরণপোষন ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে প্রত্যেকের নামে ৫ লক্ষ টাকা করে মোট ১৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য ইতিমধ্যেই চাহিদা পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছি এবং শিঘ্রই তারা এই সহযোগীতা পেয়ে যাবেন। 

এমপি মাসুদ সাঈদী আরো বলেন, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্বে ১৩তম আর এশিয়ায় ৭ম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশে প্রতিবছর ২১ হাজার নিরপরাধ মানুষের তরতাজা প্রাণ অকালে নিভে যায়। 

মাসুদ সাঈদী এমপি বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা এবং সামাজিক আন্দোলনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম, গণমাধ্যমে প্রচারণা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান, চালকদের প্রশিক্ষণ উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিতকরণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাসানাত ডালিম বলেন, “একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে পুরো মুনিরাবাদ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামের মানুষ এমন মর্মান্তিক ঘটনা আগে কখনও দেখেনি।”

শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে নিহত তিনজনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাদের মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে এখনও শোক ও বেদনার আবহ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত সোহাগ নারায়ণগঞ্জ জেলার আলীগঞ্জে স’মিল শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কোরবানির ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন। তার দুই ছেলের অন্যজন নানাবাড়িতে থাকে। নিতান্ত সহজ-সরল মানুষ ছিলেন সোহাগ। একই পরিবারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

প্রসঙ্গত, ওই দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ জনের অন্য দুজন বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ।

নিহতদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নাজিরপুর উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হাসানাত ডালিম।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।