রেকর্ড সেঞ্চুরি গড়া নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারের ব্যাটিংয়ে হতভম্ব শচীন
সাইক্লোন, ঝড় বা সুনামি—গত রাতে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ফিন অ্যালেনের ব্যাটিং তাণ্ডবকে বোঝাতে এই শব্দগুলোও যেন বড্ড বেমানান! অনেকটা ভিডিও গেমসের মতোই একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে একাই উড়িয়ে দিয়েছেন এই কিউই ওপেনার। মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে গড়েছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম শতকের রেকর্ড। তাঁর এই অতিমানবীয় ইনিংসে ভর করে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৩ বল হাতে রেখেই প্রোটিয়াদের ৯ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে নিউজিল্যান্ড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচবার দেখায় প্রতিবারই হারতে হয়েছিল কিউইদের। অবশেষে ১৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অধরা সেই জয় এল একদম রাজকীয় ঢঙে। ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে মিড অফ দিয়ে চার মেরে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিটিও পূর্ণ করেন অ্যালেন। ভেঙে দেন ২০১৬ সালে মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গড়া ক্রিস গেইলের ৪৭ বলের সেঞ্চুরির রেকর্ড।
নকআউট পর্বের চরম চাপের মুখে এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ খোদ ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘সেমিফাইনাল ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের একটু রোমাঞ্চ থাকেই। তবে আজ আমরা ম্যাচ দেখতে বসার আগেই ফিন অ্যালেন সব শেষ করে দিল। কী দারুণ এক ম্যাচ!’
এর আগে, টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০.২ ওভারে মাত্র ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা প্রোটিয়াদের কাছে তখন ১৫০ রানও মনে হচ্ছিল অনেক দূরের পথ। তবে ষষ্ঠ উইকেটে মার্কো ইয়ানসেন ও ত্রিস্তান স্টাবসের ৪৮ বলে ৭৩ রানের জুটিতে লড়াই করার মতো পুঁজি পায় তারা। ৭ নম্বরে নেমে ইয়ানসেনের ৩০ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় খেলা ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
১৭০ রানের লক্ষ্য টি-টোয়েন্টিতে খুব কঠিন না হলেও সেমিফাইনালের একটা মনস্তাত্ত্বিক চাপ তো থাকেই। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটিতে ফিন অ্যালেন ও টিম সাইফার্ট সেই চাপকে পাত্তাই দেননি। পাওয়ার প্লেতেই বিনা উইকেটে ৮৪ রান তুলে ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলেন তাঁরা। ৫৫ বলে ১১৭ রানের এই উদ্বোধনী জুটিতেই প্রোটিয়াদের সব আশা শেষ হয়ে যায়। এমনকি ব্যাটের কানায় লাগা বলও বেশ কয়েকবার বাউন্ডারি পার হয়েছে। সাইফার্ট ফেরার পর রাচিন রবীন্দ্রকে দর্শক বানিয়ে বাকি কাজটা একাই সারেন অ্যালেন।
ম্যাচ শেষে দারুণ উচ্ছ্বসিত নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলেন, ‘১৭০ রান নিয়ে আমরা বেশ সন্তুষ্ট ছিলাম। তবে টি-টোয়েন্টিতে কখন কী হয়, বলা যায় না। ফিনি তার স্বাভাবিক খেলাই খেলেছে। ৩৩ বলে ১০০ মোটেও খারাপ কিছু নয়!’
অন্যদিকে, অসহায় আত্মসমর্পণ মেনে নিয়ে প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম বলেন, ‘মাঝপথে আমাদের মনে হয়েছিল জয়ের সুযোগ আছে। কিন্তু ওরা যেভাবে এগোতে থাকে, তাতে আমাদের আর ম্যাচে ফেরার উপায় ছিল না। অ্যালেন ও সাইফার্টের ইনিংস দুটি খুব দ্রুত ম্যাচটা আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। এই বিশাল কৃতিত্ব তাদেরই প্রাপ্য।’
What's Your Reaction?
খেলা ডেস্কঃ