‘পুলিশের কাছে গেলে লাশ পাবি’, চিরকুটের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই অপহৃত শিশুর মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্কঃ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:৪৪ পিএম
শেয়ার করুন:
‘পুলিশের কাছে গেলে লাশ পাবি’, চিরকুটের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই অপহৃত শিশুর মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ‘পুলিশের কাছে গেলে লাশ পাবি’—এমন হুমকির চিরকুট পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় বাড়ির পাশের একটি ময়লার ভাগাড় থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

নিহত জায়হান পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার শাহজাহানের ছেলে। 

যেভাবে নিখোঁজ ও মুক্তিপণ দাবি:  
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনে খেলার সময় নিখোঁজ হয় শিশু জায়হান। আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরদিন বুধবার বিকেলে জায়হানের বাবার শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া যায়। 

সেই চিরকুটে লেখা ছিল— “তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে। ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন। আধা ঘণ্টার মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং তোর পরিবারের যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটি ব্যাগে ভরে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশের ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি।” চিরকুটের নিচে পুলিশকে না জানানোর জন্য হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। 

চিঠির বিষয়টি জানার পরপরই পটিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেটি আলামত হিসেবে জব্দ করে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।

মরদেহ উদ্ধার ও স্বজনদের অভিযোগ:  
তদন্ত চলার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে জায়হানের বাড়ির পাশের একটি ময়লার স্তূপে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। 

স্বজনদের অভিযোগ, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে জায়হানকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠায় এবং ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অপহরণকারীরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেয়। স্বজনরা আরও জানান, জঘন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও অভিযুক্ত প্রতিবেশীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার নাটক করছিল, যাতে কেউ তাদের সন্দেহ না করে।

পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি:  
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। চিরকুটের সূত্র ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।