পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২৭ পিএম
শেয়ার করুন:
পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়; বরং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক বাহিনী হিসেবে পুলিশকে জনসেবা প্রদান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। 

রোববার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের প্রথম পর্যায়ের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করতে হবে। ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে বিগত সরকারের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের মাঝে যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। থানায় সেবা নিতে এসে কোনো সাধারণ নাগরিক যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে সতর্ক থাকতে হবে।”

উল্লেখ্য, ছয় মাসব্যাপী এই মৌলিক প্রশিক্ষণ গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল। প্রশিক্ষণ শেষে এই সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাম গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এবারের কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি একাধারে ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—এই দুই ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ‘বেস্ট একাডেমিক’ পুরস্কার অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ বি এম মামুন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমান।

---

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।