নগরকান্দায় চেয়ারম্যানের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে জন্মনিবন্ধন তৈরি, ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:২১ পিএম
শেয়ার করুন:
নগরকান্দায় চেয়ারম্যানের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে জন্মনিবন্ধন তৈরি, ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ১ নম্বর চরযশোরদী ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন সনদে চেয়ারম্যানের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব আক্তারুজ্জামান সোহেল ও বহিরাগত এক যুবকের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যানের সিল-স্বাক্ষর নকল করে জন্মনিবন্ধনের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিখড়হাটি গ্রামের শওকত খানের ছেলে ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সচিবের সঙ্গে আঁতাত করে জন্মনিবন্ধনের সনদপত্র তৈরির কাজ করে আসছিলেন। এতে ইউপি চেয়ারম্যানের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ব্যবহার করা হতো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন একটি জন্মনিবন্ধন পত্র তৈরির প্রক্রিয়ার সময় বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। জালিয়াতির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় জনতা বহিরাগত ফয়সালকে হাতেনাতে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সচিব আক্তারুজ্জামান সোহেল পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজনের অগোচরে কৌশলে অভিযুক্ত ওই যুবককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।

এ বিষয়ে চরযশোরদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, “চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সাহেব ফকিরের মৃত্যুর পর সম্প্রতি আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সচিব ও ওই যুবকের তৈরি করা একটি জন্মনিবন্ধনের নথিতে আমার স্বাক্ষরের জায়গায় একটি জাল স্বাক্ষর দেখতে পাই, যা কোনোভাবেই আমার নয়। তারা দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের জালিয়াতি চক্র গড়ে তুলেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করে জানান, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে জন্মনিবন্ধনের কাগজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছিল। প্রায় দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা সচিব আক্তারুজ্জামান সোহেল পরিষদে যোগদানের পর থেকেই খেয়ালখুশিমতো বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, আটক হওয়ার পরও বহিরাগত যুবককে কেন ছেড়ে দেওয়া হলো এবং এ পর্যন্ত কতগুলো জাল সিল-স্বাক্ষরযুক্ত সনদ বিতরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সচিব আক্তারুজ্জামান সোহেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

চরযশোরদী ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতির এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।