আমার দল ক্ষমতায় তাই মারধর করেছি: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার স্বীকারোক্তি

অনলাইন ডেস্কঃ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম
শেয়ার করুন:
আমার দল ক্ষমতায় তাই মারধর করেছি: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার স্বীকারোক্তি

বগুড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক যুবদল নেতাকে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। মারধরের পর অভিযুক্ত নেতা দাবি করেছেন, দল ক্ষমতায় থাকায় তিনি এ কাজ করেছেন। আহত যুবদল নেতা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা উত্তরপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

আহত আইনুল শেখ বগুড়া মহানগর যুবদলের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, বগুড়া সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বাপ্পী ও তার সহযোগীরা আইনুল শেখের ওপর এ হামলা চালান।

বিরোধের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিশিন্দারা উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা জায়েদ এবং আইনুল শেখের মা নুরুন্নাহার বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করা হলে বিষয়টি নিয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশনে অভিযোগ দেওয়া হয়। এরপর গত ৯ জুন সিটি করপোরেশন সেখানে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেয় এবং আগামী ২৪ জুন উভয় পক্ষকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ পাঠায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের নির্দেশ অমান্য করে বিতর্কিত জমিতে পুনরায় নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছিল। বুধবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আইনুল শেখ ঘটনাস্থলে গেলে শাহ আলম বাপ্পী ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার পাইপ দিয়ে তার ওপর হামলা চালান এবং বেধড়ক মারধর করেন। 

আহত আইনুল শেখ জানান, ইতিপূর্বেও পারিবারিক বিরোধের জেরে তার মা নুরুন্নাহার বেগমের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল এবং এ নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। এবার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনেই তার ওপর পুনরায় এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হলো।

অভিযুক্তের বক্তব্য
মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহ আলম বাপ্পী বলেন, জমিটি নিজের দাবি করে তিনি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। তিনি বলেন, “আমার দল ক্ষমতায়, আমার জমিতে বাড়ি নির্মাণ করছি। বাধা দিতে আসায় তাকে মারধর করেছি।” তিনি আরও জানান, ২৪ জুন সিটি করপোরেশনের শুনানির পর বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

পুলিশের পদক্ষেপ
বগুড়ার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গিয়েছিল। এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহত যুবদল নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।