‘ব্যাংকব্যবস্থা পুনর্গঠন ছেড়ে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত সরকার’

অনলাইন ডেস্কঃ
May 23, 2026 - 13:30
‘ব্যাংকব্যবস্থা পুনর্গঠন ছেড়ে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত সরকার’

দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে সরকার নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

শনিবার (২৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো ব্যাংকিং খাত। কিন্তু ফ্যাসিবাদী আমলে লুটপাট হওয়া এই খাতটি পুনর্গঠনে নজর না দিয়ে সরকার তার নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধারে তৎপর। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ব্যাংক চরম তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চাপে রয়েছে। বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য মহাদুর্যোগ বয়ে আনছে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম গভর্নরের অযোগ্যতা ও সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপে আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। আমানতকারীরা সর্বস্ব হারিয়ে হাহাকার করছেন। কয়েকটি ব্যাংকে সরকার তার নিজস্ব অনুগত ব্যক্তিদের বসিয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট করছে, যা কোনো দায়িত্বশীল সরকারের কাজ হতে পারে না।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, “রেমিট্যান্স ও বাণিজ্যে শীর্ষস্থানীয় এই ব্যাংকটি নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। বৈধ এমডিকে জোরপূর্বক পদচ্যুত করার সরকারি সিদ্ধান্তের আমি তীব্র নিন্দা জানাই। অযোগ্য ব্যক্তিদের পর্ষদে বসিয়ে ব্যাংকটিকে স্থবির করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর ফলে ৩ কোটি আমানতকারী ও ৮০ লাখ উদ্যোক্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছেন।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হলে পুরো ব্যাংকিং খাতেই বিপর্যয় নেমে আসবে। আন্তর্জাতিকভাবেও দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।

সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলীয় আনুগত্য ছাড়া বিশেষ যোগ্যতা নেই এমন একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে তিনি নিম্নোক্ত দাবিগুলো তুলে ধরেন:

*   অবিলম্বে দলীয় গভর্নরকে অপসারণ করে আর্থিক খাতে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে।
*   ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে স্বপদে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং বর্তমান বোর্ড ভেঙে দিয়ে দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন বোর্ড গঠন করতে হবে।
*   ব্যাংকিং খাতে সব ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
*   ব্যাংক লুটেরাদের আইনের আওতায় এনে পাচারকৃত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

বিবৃতির শেষে তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে যে আর্থিক বিপর্যয় আসবে, তা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow