দৌলতপুরে সাপের উপদ্রব: ৮ জন আক্রান্ত, এক শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় আতঙ্ক

মোঃ হারুন অর রশীদ, দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ
১৭ জুন, ২০২৬ ১১:২৮ এএম
শেয়ার করুন:
দৌলতপুরে সাপের উপদ্রব: ৮ জন আক্রান্ত, এক শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় আতঙ্ক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাপের কামড়ে এক শিশুসহ অন্তত ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যার পর মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর গ্রামে সাপের কামড়ের শিকার হন তিনজন নারী। এরা হলেন—শশীধরপুর গ্রামের সোলাইমান হোসেনের স্ত্রী মাসেদা খাতুন (৩৬), নাহিদুল ইসলামের স্ত্রী বিথী খাতুন (২৬) এবং মহাসিন হোসেনের স্ত্রী বিলকিস আরা (৪৯)। 

এর আগের দিন রোববার রাতে একই গ্রামের রিফাত আলীর ছেলে সিয়াম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সিয়ামের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতে মাঠসংলগ্ন ডীব এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে সাপে কামড় দেয়। প্রথমে বিষয়টি টের না পেলেও রাত ১টার দিকে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২ জুন থেকে দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও চারজন সাপের কামড়ের শিকার হন। তারা হলেন—বৈরাগীর চর এলাকার তহোর আলীর ছেলে ইন্তাজ আলী (৫৩), চক কৃষ্ণপুর গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে আল আমিন (২১), মতিউর রহমানের মেয়ে তাইবা (১০) এবং বাহিরমাটি গ্রামের আসিত হোসেনের স্ত্রী লিপিয়ারা (২২)। তারা প্রত্যেকেই যথাযথ চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বর্ষার শুরু থেকেই শশীধরপুরসহ আশপাশের এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। ফসলি জমি, বাড়ির আশপাশ এবং রাস্তাঘাটে সাপের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। 

আক্রান্ত বিথী খাতুন ও মাসেদা খাতুন জানান, সন্ধ্যার দিকে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সময় তারা পায়ে কামড় অনুভব করেন। পরে স্বজনরা তাদের দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা সাপে কামড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাওয়ায় বর্তমানে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোছা. দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, "গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে মোট ৮ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও সিয়াম নামের এক শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।"

হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "বর্ষা মৌসুমে সাধারণত সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের মতো কুসংস্কারে সময় নষ্ট না করে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ রইল।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।