বেনজীরকে দেশে আনতে দুবাই পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ জুন, ২০২৬ ১১:৪৭ এএম
শেয়ার করুন:
বেনজীরকে দেশে আনতে দুবাই পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পৌঁছেছে। এদিকে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ের আল আওয়ার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

আদালতে দুপক্ষের আবেদন ও সময় প্রার্থনা
দুবাই ও বাংলাদেশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাই কোর্ট অব আপিলে বেনজীর আহমেদের জামিনের জন্য আবেদন করেন তার আইনজীবী। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দল ওই আদালতে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিতে (প্রত্যর্পণ) আলাদা একটি আবেদন দাখিল করে। 

উভয় পক্ষের আবেদন ও নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর আদালত তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। দুবাইয়ের আইনানুগ বিষয়াদি এবং উভয় পক্ষের জমা দেওয়া কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার জন্য আদালত সময় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এই আইনি পর্যালোচনায় ১০ থেকে ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

সাত দিনের মধ্যে জামিনের চেষ্টা আইনজীবীদের
বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও দুবাইয়ে অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করে গতকাল সকালেই পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে জামিনের লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করলেও জামিনের বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেয়নি; বরং চূড়ান্ত শুনানির জন্য দিন ধার্য করার কথা জানানো হয়েছে। তবে বেনজীর আহমেদের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে জামিনে মুক্ত করার জন্য সব ধরনের জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের জোর তৎপরতা
সাবেক আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দলটিতে অন্তত পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বা ইন্টারপোলের কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ সদর দপ্তরের তিনজন এবং দেশের দুটি ভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দুজন সদস্য এই দলে অন্তর্ভুক্ত। 

গতকাল তারা দুবাইয়ের আদালতে দুদকের মামলা, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের কাগজপত্রসহ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের নথি জমা দেন। প্রতিনিধি দলটি দুবাইয়ের আদালতের পাশাপাশি দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক আইনি প্রক্রিয়া ও নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজে অংশ নিচ্ছে।

যে প্রক্রিয়ায় হতে পারে প্রত্যর্পণ
দুবাইয়ের আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে অভিজ্ঞদের মতে, গ্রেফতারের পর সাধারণত ব্যক্তিকে প্রথমে পুলিশ হেফাজতে এবং পরবর্তীতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাবলিক প্রসিকিউশনে পাঠানো হয়। সেখানে নথিপত্র প্রাথমিক যাচাইয়ের পর মামলাটি পাঠানো হয় দুবাই কোর্ট অব আপিলে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০০৬ সালের ৩৯ নম্বর ফেডারেল আইন (আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা আইন) অনুযায়ী, প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত মামলার প্রাথমিক শুনানির এখতিয়ার এই আদালতের। কোনো পক্ষ অসন্তুষ্ট হলে সর্বোচ্চ আদালত ‘কোর্ট অব ক্যাসেশনে’ আপিল করার সুযোগ থাকে।

আদালত যদি প্রত্যর্পণের পক্ষে রায়ও দেন, তবুও দ্রুত হস্তান্তর করা হয় না। আদালতের রায়ের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কার্যনির্বাহী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদনের পরই কেবল প্রত্যর্পণ কার্যকর হয়।

অন্যদিকে, জামিনের ক্ষেত্রে সাধারণত অভিযুক্তের পাসপোর্ট জব্দ করা হয় এবং দুবাইয়ের কোনো প্রভাবশালী নাগরিককে জামিনদার হিসেবে উপস্থাপন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের বন্ড বা মুচলেকাও দিতে হয় আদালতকে।

দুবাইয়ে যেভাবে ধরা পড়েন বেনজীর
জানা গেছে, বিমানবন্দরে নয়, বরং দুবাইয়ের একটি শপিং মলে এক সংসদ সদস্য (এমপি) বন্ধুর আমন্ত্রণে দেখা করতে গিয়েই মূলত ধরা পড়েন বেনজীর আহমেদ। ওই বন্ধুই তাকে কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সার্বিক বিষয়ে জানতে পুলিশ সদর দপ্তরের আইজিপি, এআইজি (মিডিয়া) এবং এনসিবি শাখার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনও বিস্তারিত জানেন না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।