সংবাদ প্রকাশের পর পারিবারিক বিরোধের অবসান: সালিশের মাধ্যমে মা-ছেলের দ্বন্দ্ব মীমাংসা

মোঃ শামীম মিয়া, বিজয়নগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
১৩ জুন, ২০২৬ ১০:৫৬ পিএম
শেয়ার করুন:
সংবাদ প্রকাশের পর পারিবারিক বিরোধের অবসান: সালিশের মাধ্যমে মা-ছেলের দ্বন্দ্ব মীমাংসা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের নোয়াবাদী মীর বাড়ির প্রবাসী শরিফ উদ্দিনের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পারিবারিক বিরোধ অবশেষে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সালিশকারক ও সচেতন মহলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দুই মাস ধরে চলমান মা-ছেলের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে।

জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে গত দুই মাস ধরে মা ও ছেলের মধ্যে মতবিরোধ এবং দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সকলের সম্মতিক্রমে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সম্মত হন এবং লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

বাউতলা, আখাউড়া ও নোয়াবাদী এলাকার সম্মানিত সালিশকারক, সমাজপতি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সালিশে দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি দূর করে পুনরায় পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্য দিয়ে দুই মাসের অস্থিরতা ও মানসিক কষ্টের অবসান ঘটায় স্বস্তি ফিরে এসেছে পরিবারটিতে।

সালিশ শেষে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পারিবারিক শান্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা আশা প্রকাশ করেন, অতীতের সব ভুল বোঝাবুঝি পেছনে ফেলে আবারও আগের মতো ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও পারিবারিক বন্ধনের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারবেন।

সালিশকারকরাও এই সফল মীমাংসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। একটি ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারকে পুনরায় একত্রিত করতে পারায় তারা মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তাদের মতে, পারিবারিক বিরোধ আদালতের পরিবর্তে পারস্পরিক আলোচনা ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান হলে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হয়।

উভয় পক্ষের সদস্যরা জানান, সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সবার নজরে আসায় মীমাংসার পথ সুগম হয়েছে। এ জন্য তারা দৈনিক খোলা চোখ পত্রিকার সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আগত এবং স্থানীয় সকল সালিশকারক, সমাজসেবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উভয় পক্ষ বলেন, তাদের নিরলস প্রচেষ্টা, ধৈর্য ও আন্তরিকতার কারণেই আজ একটি পরিবারে আবারও শান্তি, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার আলো ফিরে এসেছে।

সবশেষে উভয় পক্ষ অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে একসঙ্গে মিলেমিশে জীবনযাপন করবেন এবং পরিবারের সুখ-শান্তি অটুট রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।