রোদ-বৃষ্টি মাথায় ১৮৫ টাকা সাশ্রয়ের লড়াই

অনলাইন ডেস্কঃ
May 15, 2026 - 11:02
রোদ-বৃষ্টি মাথায় ১৮৫ টাকা সাশ্রয়ের লড়াই

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এক চিলতে স্বস্তির খোঁজে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের হাহাকার এখন নিত্যদিনের চিত্র। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য পেতে রাজধানীজুড়ে চলছে সাধারণ মানুষের প্রাণান্ত চেষ্টা। গতকাল দক্ষিণ ঢাকার কাজলা ও মানিকনগর এলাকায় টিসিবির ট্রাক ঘিরে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়, ধাক্কাধাক্কি আর দীর্ঘ অপেক্ষার করুণ দৃশ্য।

১৮৫ টাকা সাশ্রয়ের যুদ্ধ
বাজারে যেখানে এক লিটার তেল, এক কেজি চিনি আর দুই কেজি ডাল কিনতে অন্তত ৬৬৫ টাকা গুনতে হয়, সেখানে টিসিবির ট্রাকে এই প্যাকেজটি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৮০ টাকায়। অর্থাৎ একটি প্যাকেজে সাশ্রয় হচ্ছে ১৮৫ টাকা। বর্তমানের অগ্নিমূল্যের বাজারে এই সামান্য সঞ্চয়টুকুও সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বড় পাওয়া। কিন্তু এই সুবিধা সবার কপালে জুটছে না। প্রতিটি ট্রাকে মাত্র ৪০০ জনের জন্য বরাদ্দ থাকায় লাইনে আগে দাঁড়ানোর জন্য চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। রোদ-বৃষ্টির তোয়াক্কা না করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

মাঠপর্যায়ের চিত্র
কাজলার ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় দেখা যায়, ট্রাক আসার আগেই শত শত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। লাইনে জায়গা রাখা নিয়ে চলছে বাগ্বিতণ্ডা। ভিড়ের চাপে নাজেহাল বৃদ্ধ মো. নবী হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “গতকাল এসেও পণ্য পাইনি, তাই আজ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আগেভাগে এসেছি। কিন্তু জোয়ানদের ধাক্কাধাক্কিতে টিকে থাকা দায়। বাজারের চেয়ে দাম কম বলেই এত কষ্ট করে দাঁড়িয়েছি, এখান থেকে বাঁচানো টাকা দিয়ে সংসারের অন্য খরচ মেটানো যাবে।”

একই চিত্র মানিকনগর বিশ্বরোড এলাকায়। পণ্য না পাওয়া রহমত উল্লাহ অভিযোগ করেন, অনেকে পরিবারের একাধিক সদস্যকে লাইনে দাঁড় করিয়ে বাড়তি পণ্য নিচ্ছেন, ফলে প্রকৃত অভাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, টিসিবির ট্রাক কখন কোথায় আসবে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তাদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

ডিলারদের অসহায়ত্ব
পণ্য স্বল্পতার কথা স্বীকার করেছেন টিসিবির ডিলাররাও। তাদের মতে, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের পরিমাণ খুবই কম। ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৪০০ মানুষের বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়। ডিলার রাশেদুল করিম জানান, পণ্য ফুরিয়ে গেলে অপেক্ষমাণ মানুষের ক্ষোভ সামাল দিতে তাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।

বিশেষজ্ঞ অভিমত
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব-এর সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বললেও একে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতির এই সময়ে নিম্নবিত্তের জন্য ট্রাকসেল অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে বাজারে স্বস্তি ফেরাতে হলে সরবরাহ বাড়ানো, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বাজার কারসাজি রোধে কঠোর মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই।”

উল্লেখ্য, গত সোমবার শুরু হওয়া এই বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। এই ১০ দিনে সারা দেশে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার পরিবারের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে টিসিবি। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, এই কার্যক্রম যেন কেবল উৎসবকেন্দ্রিক না হয়ে সারা বছর অব্যাহত রাখা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow