পল্লবীতে শিশু হত্যা ডিএনএ রিপোর্ট ও চার্জশিট পেলে ঈদের পরপরই বিচার শুরু করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু হত্যা মামলার বিচার দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ডিএনএ রিপোর্ট এবং তদন্তের চার্জশিট সময়মতো পাওয়া গেলে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পরপরই এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
আজ শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৫ মে থেকে ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে। ছুটির আগেই যদি ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যায় এবং ঈদের আগেই পুলিশ চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করতে পারে, তবে ঈদের ছুটি শেষ হওয়া মাত্রই মামলার বিচারকাজ শুরু করা যাবে।
তিনি আরও জানান, সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস পার হলেও এই স্পর্শকাতর মামলার ক্ষেত্রে মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
**আইনি ত্রুটি এড়ানোর তাগিদ**
বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে কত দিন লাগতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী অতীতের দুটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিলের পর মাত্র এক মাসে বিচার শেষ হয়েছিল। এছাড়া ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক ‘মুলুক চাঁদ’ মামলায় মাত্র একদিনেই বিচার সম্পন্ন করার উদাহরণ রয়েছে।
তবে দ্রুত বিচারের পাশাপাশি আইনি নিখুঁততার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "বিদ্যমান আইনের যথাযথ বিধান অনুসরণ না করে তড়িঘড়ি করে চার্জশিট দিলে প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি ত্রুটি (ফ্যাটাল ইনজুরি) থেকে যেতে পারে। এ ধরনের মামলায় ডিএনএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। যেহেতু আমাদের দেশে এখন ডিএনএ পরীক্ষার আধুনিক সুযোগ রয়েছে, তাই এই প্রমাণটি অবশ্যই সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত।"
তিনি আরও যোগ করেন, "জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছি। আমাদের কাজে কোনো ত্রুটি হলে আপনারা গঠনমূলক সমালোচনা করবেন এবং সঠিক পথ দেখাবেন; এ বিষয়ে আমাদের কোনো দ্বিধা থাকবে না।"
**সামাজিক অবক্ষয় ও অন্যান্য প্রসঙ্গে**
দেশে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী একে সামাজিক অবক্ষয়ের একটি বড় অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। একই সাথে তিনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলেও তা কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের (ডেথ রেফারেন্স) অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
এ সময় নেত্রকোনায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাটি মন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি জানান, সরকার এই বিষয়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস। কর্মশালার মুক্ত আলোচনা পর্বে ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি মানবাধিকার ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ