পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবার আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্কঃ
Feb 24, 2026 - 11:24
পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবার আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এর ক্ষত এখনো শুকায়নি। ২০০৯ সালের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তখনই এলো এক চাঞ্চল্যকর খবর। পিলখানা হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় প্রথমবারের মতো আসামি হতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু শেখ হাসিনাই নন, এই মামলায় আসামি হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ তৎকালীন সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলেও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি এখনো বিচারিক আদালতে ঝুলে আছে।

বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, সম্পূরক চার্জশিটের মাধ্যমে এই মামলায় নতুন করে শেখ হাসিনা, শেখ তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত সাহারা খাতুনসহ একাধিক রাজনৈতিক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী তাদের এই মামলায় আসামি করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিস্ফোরক আইনের এই মামলায় মোট ১ হাজার ২০০ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতদের পরিবার এবং কারাবন্দি আসামিদের স্বজনরা। 

আসামিপক্ষের আইনজীবী পারভেজ হোসাইন বলেন, "হত্যা মামলায় যারা খালাস পেয়েছেন, বিস্ফোরক মামলাটি শেষ না হওয়ায় তারা এখনো মুক্তি পাচ্ছেন না। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার কারণে একদিকে যেমন ন্যায়বিচার বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে আসামিরাও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।"

২০১৩ সালে বিচারিক আদালত পিলখানা হত্যা মামলায় ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে বিস্ফোরক মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকায় পুরো বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রসিকিউশন বলছে, নতুন করে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের আসামি করার মাধ্যমে ঘটনার পেছনের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করা সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন মোড় পিলখানা ট্র্যাজেডির ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে কতটা ত্বরান্বিত করে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow