'লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান: আজ পবিত্র হজ
আজ ৯ জিলহজ, পবিত্র হজ। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আজ মুখরিত ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ১৬ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান আজ সমবেত হয়েছেন এই পবিত্র প্রান্তরে। মহান আল্লাহর নৈকট্য, রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে সমবেত আত্মনিবেদন— ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’
আজ ভোর থেকেই মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে প্রবেশ করতে শুরু করেন হাজিরা। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই পবিত্র সীমানার মধ্যে অবস্থান করবেন তারা। দিনব্যাপী ইবাদত-বন্দেগি, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও কান্নায় সিক্ত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করবেন আল্লাহর অতিথিরা। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা বা ‘উকুফে আরাফা’ হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন বা মূল ফরজ।
দুপুরের দিকে ঐতিহাসিক মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হবে। এবারের খুতবা পাঠ করার কথা রয়েছে মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফার। খুতবা শেষে হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে এবং সংক্ষিপ্ত (কসর) আকারে আদায় করবেন। এরপর অনেকে জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে মোনাজাত করবেন।
মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই আরাফাতের ময়দান মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, পৃথিবীতে আগমনের পর হযরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলন ঘটেছিল এই প্রান্তরটিতেই। এছাড়া ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিদায় হজের সময় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এখানেই তাঁর ঐতিহাসিক বিদায়ি ভাষণ প্রদান করেছিলেন; যেখানে তিনি বিশ্ববাসীর জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের পবিত্রতা সম্পর্কে যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা দিয়ে যান।
এর আগে মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ পালনের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন হাজিরা। আজ সূর্যাস্তের পর তারা আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন। আগামীকাল মুজদালিফা থেকে পাথর সংগ্রহ করে পুনরায় মিনায় ফিরে যাবেন এবং শয়তানের উদ্দেশে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপসহ হজের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ