এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
কল্পনা করুন এমন এক বিভীষিকার কথা—যে অপরাধ আপনি কখনো করেননি, সেই মিথ্যা কলঙ্কে আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ ৩৯টি বছর হারিয়ে গেল কারাগারের চার দেয়ালের অন্ধকার কুঠুরিতে। কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য মনে হলেও, এটি আমেরিকার বিচার বিভাগের ইতিহাসের এক করুণ বাস্তব ও দীর্ঘতম ট্র্যাজেডি, যার নাম রিকি জ্যাকসন।
প্রায় চার দশক বিনাদোষে কারাবাস করার পর অবশেষে ওহাইও রাজ্যের একটি আদালত রিকি জ্যাকসনকে ১০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে। মার্কিন ইতিহাসে এটি কেবল একটি আইনি বিজয় নয়, বরং এক দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল।
ঘটনার পটভূমি:
এই ট্র্যাজেডির শুরু ১৯৭৫ সালে। ওহাইও’র ক্লিভল্যান্ডে একটি মুদি দোকানের সামনে ব্যবসায়ী হ্যারল্ড ফ্রাঙ্কস নৃশংসভাবে খুন হন। সেই হত্যাকাণ্ডের দায়ে পুলিশ কোনো শক্ত প্রমাণ ছাড়াই রিকি জ্যাকসন এবং তাঁর দুই বন্ধু উইলি ও রনি ব্রিজম্যানকে গ্রেপ্তার করে। তৎকালীন ত্রুটিপূর্ণ ও বর্ণবাদী তদন্তের ভিত্তিতে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। পুরো মামলার ভিত্তি ছিল এডি ভার্নন নামের এক ১৩ বছর বয়সী কিশোরের সাক্ষ্য। অথচ রিকি তখন ছিলেন অন্য শিশুদের সাথে একটি স্কুলবাসে।
সত্যের উন্মোচন:
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০১১ সালে এডি ভার্নন নিজের বিবেকের দংশনে মুষড়ে পড়েন। তিনি স্বীকার করেন যে, পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে ভয় দেখিয়ে এবং প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি দূর থেকে কেবল গুলির শব্দ শুনেছিলেন, কিন্তু কাউকে খুনের শিকার হতে দেখেননি।
মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ:
এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির পর ২০১৪ সালের নভেম্বরে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ বাতিল করে দেয়। ২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর যখন রিকি জ্যাকসন জেল থেকে বের হন, ততদিনে তাঁর জীবন থেকে ৩৯ বছর ১ মাস ৯ দিন হারিয়ে গেছে। এটি মার্কিন ইতিহাসে কোনো নির্দোষ মানুষের ভুল সাজা খেটে বেঁচে ফেরার দীর্ঘতম রেকর্ড।
সম্প্রতি ক্ষতিপূরণের খবরটি শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিকি। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এই অর্থ আমার নতুন জীবনের জন্য অনেক বড় অবলম্বন হবে।”
তবে বিচার বিশ্লেষকদের মতে, ১০ লাখ ডলারের এই বিশাল চেক হয়তো রিকিকে সচ্ছলতা দেবে, কিন্তু তাঁর জীবনের সোনালী যৌবন আর নষ্ট হওয়া ৪০টি বছর কি কোনো অর্থমূল্য দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? রিকি জ্যাকসনের এই গল্পটি বিশ্ব বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে যেমন এক কালো অধ্যায়, তেমনি এটি সত্যের দেরিতে হলেও ফেরার এক বিষাদময় উপাখ্যান।
আগস্ট ১৮, ২০২৬
মে ২৩, ২০২৬
জুন ৬, ২০২৬
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ২৫ আগস্ট, ২০২৬
নওগাঁ | ২৫ আগস্ট, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ আগস্ট, ২০২৬
মাদারীপুর | ২৫ আগস্ট, ২০২৬
পিরোজপুর | ২৫ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।