নগরকান্দায় প্রস্তুত ২১ সহস্রাধিক পশু, শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা জুড়ে কোরবানির পশু প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। উপজেলার ফুলসুতি, চরযশোরদী, রামনগর ও পুরাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় খামারগুলোতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের নিবিড় পরিচর্যা।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কেউ এক বছর, আবার কেউ দুই বছর ধরে গরু লালন-পালন করছেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘাস, ভুসি ও দেশীয় পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এসব পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। খামারিদের দাবি, ক্ষতিকর কোনো ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদ পদ্ধতিতে পশুগুলো প্রস্তুত করেছেন তারা।
ফুলসুতি গ্রামের খামারি জামাল মেম্বার বলেন, “অনেক যত্ন আর কষ্ট করে গরুগুলো লালন-পালন করেছি। এবার হাটগুলোতে বাজার ভালো থাকলে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি।”
তবে পশুখাদ্যের বাড়তি দাম ও শ্রমিক সংকট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক খামারি। পুরাপাড়া গ্রামের খামারি আবুল কালাম আজাদ জানান, “পশুখাদ্যের দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তারপরও সাধ্যমতো ভালোভাবে পশু প্রস্তুত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
এদিকে, কোরবানির পশু সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত খামার পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং খামারিদের দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এবার নগরকান্দা উপজেলায় মোট ২১ হাজার ৯৩টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ৪ হাজার ৮৭৮টি, গাভী ২ হাজার ৫৯৮টি এবং ছাগল রয়েছে ১২ হাজার ৪৫২টি। এ বছর প্রস্তুতকৃত পশুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৮৭৩টি বেশি।
তিনি আরও জানান, এখানকার পশু দিয়ে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জেলার বাইরের হাটগুলোতেও সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে।
খামারিদের এখন একটাই প্রত্যাশা—ঈদের বাজার পুরোপুরি জমে উঠলে তারা তাদের পালিত পশুর ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের সফল পরিণতি ঘটবে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ