নোয়াখালী চৌমুহনীতে ভেজাল সামগ্রী তৈরী ও বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীর জরিমানা
নোয়াখালী বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরে র্যাবের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ বিক্রি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরির অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে।
বুধবার সন্ধায় র্যাব -১১ কোম্পানী কমান্ডার মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত জানান, চৌমুহনী গোলাবাড়িয়া এলাকায় একটি ডিলার পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে, প্রাণ কোম্পানির ডিলার শহিদুল ইসলাম মেয়াদোত্তীর্ণ দুধের প্যাকেট বাজার থেকে ফিরিয়ে এনে সেগুলো কেটে পলিব্যাগে ভরে পুনরায় প্যাকেটজাত করে ‘দেশি দুধ’ হিসেবে বাজারজাত করছিলেন। বিষয়টি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে সম্পূর্ণ বেআইনি। মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং তা বিষে পরিণত হতে পারে। এ সময় ডিলার পয়েন্ট থেকে ২৫ প্যাকেট মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। অপরাধ স্বীকার ও ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে, চৌমুহনী পৌরসভার হাজিপুর এলাকায় আনন্দ সেমাই কারখানায় অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। কারখানায় নিম্নমানের তেল-ডালডা ব্যবহার, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং কর্মচারীদের হ্যান্ড গ্লাভস ও অ্যাপ্রন ছাড়া উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে কারখানার মালিক আবদুল মতিন চৌধুরীকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় কারখানার বিএসটিআই অনুমোদনপত্র, ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। কিছু কাগজপত্র সঠিক থাকলেও অধিকাংশের মেয়াদ উত্তীর্ণ পাওয়া যায়।
তিনি আরো বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ঈদকে সামনে রেখে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। র্যাবের চৌকস টিম সব সময় সক্রিয় আছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাদত হোসেন জানান, মেদোত্তীর্ণ দুধ প্যাকেট করায় ডিলার শহিদুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি কড়াই ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। যারা জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ফেলে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
What's Your Reaction?
রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ