খামেনির মৃত্যুসংবাদ পড়তে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন উপস্থাপক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুসংবাদ পাঠ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সংবাদ উপস্থাপক। রোববার (১ মার্চ) ভোরে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে (IRIB) আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর প্রচারের সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
সরাসরি সম্প্রচারে খামেনির মৃত্যু সংক্রান্ত সরকারি বিবৃতি পড়ার সময় ওই উপস্থাপকের কণ্ঠ বাষ্পরুদ্ধ হয়ে আসে। এক পর্যায়ে তিনি চোখের পানি মুছতে শুরু করেন, যা দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আবেগঘন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় শনিবার থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলা শুরু হয়। এর একদিন পরই রোববার ভোরে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। খামেনির প্রয়াণে ইরানি সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এই সময়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং সব ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান সীমিত করে বিশেষ দোয়া ও স্মরণসভার আয়োজন করা হবে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে তার জীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার আগেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, খামেনি নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' এক দীর্ঘ পোস্টে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, "ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব খামেনি আর নেই। এটি কেবল ইরানের মজলুম জনগণের জন্যই নয়, বরং সারা বিশ্বের সেইসব আমেরিকানদের জন্য বড় একটি বিচার, যারা তার মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছেন।" তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নিখুঁত নজরদারিতে এই অভিযান সফল হয়েছে।
ট্রাম্প তার বার্তায় ইরানি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এটি আপনাদের দেশ পুনরুদ্ধারের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। আমরা জানতে পেরেছি, আইআরজিসি ও নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্যই আর যুদ্ধে লিপ্ত হতে ইচ্ছুক নন এবং তারা নিরাপত্তার আবেদন জানাচ্ছেন।"
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে প্রধান ভূমিকা পালনকারী এই নেতার অনুপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যেমন দেশজুড়ে শোকের ছায়া বিরাজ করছে, অন্যদিকে এই পরবর্তী নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ